হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযুক্তের পলায়ন
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে হাদি হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার একজন সহযোগী বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে। তিনি জানান, তারা দুজন ময়মনসিংহ সীমান্ত ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রবেশ করেছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডকে সুপরিকল্পিত বলে অভিহিত করেছে।
গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই জবানবন্দি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা হয়। জুমার নামাজ শেষে প্রচার চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার অজ্ঞাত সহযোগী চলন্ত অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
মামলার বিবরণ
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা এবং বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।