সিরাজগঞ্জে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও BNP-র অভ্যন্তরীণ কোন্দল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপি (BNP) মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে। দলটির তিনটি আসনে মনোনয়নবঞ্চিত ৫ নেতাও বিএনপি'র নামেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, যা চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে Internal Conflict বা কোন্দলের ইঙ্গিত বহন করে।
মনোনয়ন সংগ্রহ ও একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সিরাজগঞ্জ রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে মোট ৪৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
আসনভিত্তিক সংগ্রহ: সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৯, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ৬, এবং সিরাজগঞ্জ-৩, সিরাজগঞ্জ-৪ ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে ৭ জন করে এবং সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
তবে একাধিক প্রার্থী নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে সিরাজগঞ্জ-৩, সিরাজগঞ্জ-৪ এবং সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে।
সিরাজগঞ্জ-৩ ও ৪: সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে ভিপি আইনুল হক ছাড়াও মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে এম আকবর আলী ছাড়াও মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন।
সিরাজগঞ্জ-৬: এই আসনে ড. এম এ মুহিতকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও দলের পক্ষে মনোনয়নপত্র তুলেছেন জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য গোলাম সরোয়ার এবং জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শফিফুল ইসলাম ছালাম।
মনোনয়নবঞ্চিতদের দাবি: শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন
মনোনয়নবঞ্চিত একাধিক নেতা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড শেষ মুহূর্তে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে।
খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর (সিরাজগঞ্জ-৩): তিনি বলেন, "বিএনপি থেকে প্রাথমিকভাবে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সেটা চূড়ান্ত নয়। দল তো আমাকেও মনোনয়ন দিতে পারে। আমার বয়স হয়েছে, এটাই আমার শেষ নির্বাচন।"
গোলাম সরোয়ার (সিরাজগঞ্জ-৬): তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, "আমার নেতাকর্মীদের চাহিদার কারণে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। জনগণ ও নেতাকর্মীর দিকে তাকিয়ে দল পরিবর্তন করবে।"
গোলাম মওলা খান বাবলু (সিরাজগঞ্জ-৫): তিনি বলেন, "যদি কোনো কারণে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন হয় সেই ক্ষেত্রে সুযোগ থেকে যাবে।"
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান: চূড়ান্ত মনোনয়নই আসল
সিরাজগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান মিঞা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, "একটি দলের পক্ষে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। তবে যিনি দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে আসবেন তাকেই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাকিরা বাতিল হয়ে যাবেন।" এই নিয়ম অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলেও কেবল চূড়ান্ত প্রার্থীরই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে।