দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। চলতি ডিসেম্বর মাসের মাত্র ২৮ দিনেই প্রবাসীরা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ২৯৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের Macro Economy-তে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইতিবাচক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন।
প্রতিদিন গড়ে আসছে ১০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই প্রবাসীরা বৈধ পথে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। মাসের প্রথম ২৮ দিনে আসা ২৯৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। কেবল গত ২৮ ডিসেম্বর একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
বছর ব্যবধানে বড় প্রবৃদ্ধি
২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এবারের রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম ২৮ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৪২ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় এ বছর একই সময়ে আয় বেড়েছে ৫১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে এক বিশাল উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তারল্য সংকট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
চলতি অর্থবছরের অর্জন ও প্রবৃদ্ধি
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসেরও কম সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ৫৯৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।
মাসের ভিত্তিতে আয়ের তুলনামূলক চিত্র:
নভেম্বর: ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার (চলতি অর্থবছরের একক মাসের সর্বোচ্চ)
অক্টোবর: ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার
সেপ্টেম্বর: ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার
আগস্ট: ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার
জুলাই: ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার
সর্বোচ্চ রেকর্ডের হাতছানি
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশ মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের ধারা বজায় থাকলে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ, এমনটাই আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং ডলারের বিনিময় হার বা Exchange Rate স্থিতিশীল থাকা এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। এই বিশাল অঙ্কের রেমিট্যান্স সরাসরি দেশের Foreign Exchange Reserve শক্তিশালী করতে অবদান রাখছে, যা বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।