ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আলী নূর-এর কাছে তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কেবল একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রিন্সের এই মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জনগণ ও শহীদ পরিবারের সান্নিধ্যে বিশেষ মোনাজাত
মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের ঈদগাহ মাঠে এক বিশাল দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্য, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
উপস্থিত সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রিন্স বলেন, “আমি এই মাটির সন্তান। আমার এই রাজনৈতিক লড়াই কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার জন্য নয়; বরং হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার মানুষের লুণ্ঠিত ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য।” দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া হোসাইনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম হজরত মওলানা নূর হোসাইন।
প্রতিহিংসামুক্ত ও মানবিক জনপদ গড়ার ভিশন
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমরান সালেহ প্রিন্স তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে আমি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থান বা Job Creation-এর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়া হবে।”
বক্তব্য চলাকালীন দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি দেশনেত্রীর দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এর আগে তিনি তাঁর মরহুম বাবা ও পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন।
রাজনৈতিক সংহতি ও ঐক্য
এমরান সালেহ প্রিন্সের মনোনয়ন দাখিল অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ঐক্যের এক অনন্য ছবি ফুটে ওঠে। তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবং ২০ দলীয় জোটের সংহতি প্রকাশ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মওলানা আমিনুল ইসলাম। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ বিজয় ফরাজীর বাবা সায়েদুল ফরাজীসহ স্থানীয় হিন্দু ও ট্রাইবাল (Tribal) নেতৃবৃন্দ প্রিন্সের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।
ধোবাউড়ায় দোয়া ও বিশেষ তৎপরতা
হালুয়াঘাটে মূল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি ধোবাউড়া উপজেলায়ও ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়। ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ভূট্টা এতিমখানা ও মাদরাসা প্রাঙ্গণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এমরান সালেহ প্রিন্সের ছেলে সৈয়দ শেহরান এমরান উপস্থিত থেকে বাবার জন্য দোয়া চান এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের একটি অনুলিপি (Copy) পৌঁছে দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমরান সালেহ প্রিন্সের এই মনোনয়ন দাখিল কেবল বিএনপির শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগের প্রতিফলন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ আসনটি সারা দেশের নজর কাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।