কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণ ও ঝুঁকি বর্তমান জীবনযাত্রায় উচ্চ কোলেস্টেরল একটি সাধারণ সমস্যা। ভাজাপোড়া ও তেল-মসলাদার খাবারের প্রতি আসক্তি, ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভাবই এর প্রধান কারণ। এই সমস্যা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ভবিষ্যতে হৃদ্রোগ এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতার ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়।
১. সুষম আহার ও ফলের গুরুত্ব কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। খাদ্যতালিকায় গোটা শস্য (Whole Grains), প্রচুর শাকসবজি ও ফল অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। শস্যে থাকা ফাইবার, পুষ্টি ও খনিজ পদার্থ খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত তরমুজ, পেয়ারা, আপেল, কমলা, কলা ও পেঁপের মতো ফল খেলে স্বাস্থ্যকর ফলাফল পাওয়া যায়। এই ফলগুলো ফাইবারের ভালো উৎস।
২. ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার ধূমপান সরাসরি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে এই অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। যদি মদ্যপানের অভ্যাস থাকে, তবে সেটিও সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা উচিত। এই দুটি অভ্যাস ত্যাগ করলে ৩০ দিনের মধ্যেই কোলেস্টেরলের মাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
৩. নিয়মিত শরীরচর্চা ও যোগব্যায়াম কোলেস্টেরল কমানোর জন্য নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম অপরিহার্য। বাড়িতে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, যোগব্যায়াম (Yoga) এবং নিয়মিত হাঁটা (Brisk Walking) খুবই সহায়ক। প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট কিছু সময় যোগাসন ও ধ্যানের জন্য বরাদ্দ রাখলে একদিকে যেমন শারীরিক উন্নতি হয়, তেমনি মানসিক চাপও কমে আসে।
৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ (Stress Management) অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস শরীরের 'খারাপ' কোলেস্টেরল (LDL) বাড়িয়ে তোলে। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ধ্যান, যোগব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, গান শোনা, বই পড়া কিংবা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর মতো কাজগুলো মন ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
শেষ কথা কোলেস্টেরল কমানোর প্রক্রিয়াটি রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে উল্লিখিত পরিবর্তনগুলো এনে মাত্র এক মাসেই ইতিবাচক ও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। সুষম খাবার, ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাই হলো দ্রুত কোলেস্টেরল কমানোর মূলমন্ত্র।