• জাতীয়
  • ‘জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল’: বেগম জিয়ার মহাপ্রয়াণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের গভীর শোক ও শ্রদ্ধা

‘জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল’: বেগম জিয়ার মহাপ্রয়াণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের গভীর শোক ও শ্রদ্ধা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল’: বেগম জিয়ার মহাপ্রয়াণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের গভীর শোক ও শ্রদ্ধা

‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ ও ‘আপসহীন’ নেত্রীর সংগ্রামী জীবনের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বললেন, বেগম জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির আলোকবর্তিকা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় তিনি এই কিংবদন্তি নেত্রীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অদম্য সাহস এবং দেশের প্রতি তার অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি আজ তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তার প্রয়াণে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে শোকাহত এবং মর্মাহত।”

ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তার বার্তায় বেগম খালেদা জিয়াকে কেবল একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের বিবর্তনের ইতিহাসের অন্যতম কারিগর হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম এবং দেশবাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ বর্তমান সরকার চলতি মাসেই তাকে রাষ্ট্রের ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (VVIP Status) হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি (Multi-party Culture) ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

গৃহবধূ থেকে রাজপথের ‘আপসহীন’ নেত্রী

শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্থানের স্মৃতিচারণ করেন। ১৯৮১ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের অকাল মৃত্যুর পর এক কঠিন সন্ধিক্ষণে রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। ১৯৮২ সালে একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে নেমে আসার সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে স্বৈরশাসক এরশাদের ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “তার দৃঢ় মনোবল ও আপসহীন নেতৃত্ব (Uncompromising Leadership) গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতিকে বারবার মুক্তির পথ দেখিয়েছে।”

নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কারিগর

বেগম জিয়ার প্রশাসনিক সাফল্যের প্রশংসা করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটান। ‘Economic Liberalization’ বা অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি এক মজবুত অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করেন। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর সিদ্ধান্তকে তিনি বাংলাদেশের নারী শিক্ষার ইতিহাসে একটি ‘Milestone’ বা মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।

নির্বাচনী রাজনীতিতে অপরাজেয় রেকর্ড

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার অনন্য নির্বাচনী সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, “রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন অভাবনীয়ভাবে সফল। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে তিনি এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।” ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে একাধিক আসন থেকে তার জয়লাভ করার ঘটনাটি জনমনে তার গভীর গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ দেয়।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেগম জিয়ার ওপর নেমে আসা অবর্ণনীয় নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের শাসনামলে (Fascist Regime) বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার (Political Vendetta) শিকার হয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।” তার এই অটল অবস্থান দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি মনে করেন।

জাতীয় ঐক্য ও প্রার্থনার আহ্বান

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সৃষ্ট এই অপূরণীয় ক্ষতিতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণ করার এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং বিএনপির অগণিত নেতাকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “আসুন আমরা যার যার অবস্থান থেকে এই মহান নেত্রীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং তার জন্য প্রার্থনা করি।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

Tags: bangladesh politics muhammad yunus khaleda zia bnp news evercare hospital death news former pm democracy icon national grief political legacy