খোলা বোরহোল সনাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শিশু সাজিদের মৃত্যুর পর রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন তদন্ত ও প্রতিবেদন চাইলে, বিভাগীয় ৮টি জেলার ডিসিরা তা জমা দেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের মোট ১১ হাজার ৩৭১টি গভীর নলকূপের মধ্যে শুধু রাজশাহী জেলাতেই ৩৯টি পরিত্যক্ত বোরিং শনাক্ত হয়েছে। তবে নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট—এই জেলাগুলোতে কোনো পরিত্যক্ত বোরিং শনাক্ত হয়নি।
প্রশাসনের তথ্যমতে, শনাক্ত হওয়া এই ৩৯টি বোরহোল বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং শিশু ও পথচারীদের চলাচলকারী পথের পাশে অবস্থিত। এই বোরহোলগুলো মূলত সেচ ও ভূগর্ভস্থ পানির পরীক্ষার জন্য খনন করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষে সেগুলো নিরাপদে সিল না করায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রশাসনের নির্দেশ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেচের পানির সন্ধানে গত বছর বেসরকারি উদ্যোগে একাধিক 'টেস্ট বোর' খনন করা হয়েছিল। সেগুলো ব্যর্থ হওয়ায় সঠিকভাবে বন্ধ না করে শুধুমাত্র মাটি ও খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ফলে বাইরে থেকে এগুলো সহজে বোঝা যায় না এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব খোলা বোরহোল দ্রুত সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাজশাহী জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে সব পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ বন্ধ করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি করা হবে।
প্রেক্ষাপট: শিশু সাজিদের মর্মান্তিক মৃত্যু গত ১০ ডিসেম্বর তানোর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত টেস্ট বোরহোলে পড়ে দুই বছর বয়সী শিশু সাজিদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনার মাত্র দুদিনের মধ্যেই বিভাগীয় প্রশাসন সমস্ত পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ ও বোরহোল সম্পর্কে তদন্ত ও প্রতিবেদন চেয়ে পাঠায়। শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং পরিত্যক্ত বোরহোলের ঝুঁকি নিয়ে জনমনে সচেতনতা তৈরি হয়।