থার্টি ফার্স্ট নাইট বা ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহর উপলক্ষে কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দফা কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার ও তল্লাশি অভিযান শহরের প্রবেশপথ, মহাসড়ক, পর্যটন এলাকা ও আবাসিক জোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রোবায়েত হোসেন জানান, সন্দেহভাজন যানবাহন—বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যাত্রীদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে যাতে কেউ নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর সামগ্রী বহন করতে না পারে। মহাসড়কে পর্যটকদের স্বস্তিতে চলাচল নিশ্চিত করতে রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশও নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
৭ দফা বিধি-নিষেধ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সাত দফা বিধি-নিষেধ মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিধি-নিষেধগুলো হলো:
১. কক্সবাজার শহর ও সমুদ্রসৈকত এলাকায় আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দুর্ঘটনা এড়াতে আতশবাজি ও পটকা বিক্রি বা বিপণনকেন্দ্রও বন্ধ থাকবে। ২. উন্মুক্ত স্থান ও রাস্তায় প্রকাশ্যে কোনো কনসার্ট, নাচ-গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। ৩. ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বার ও মদের দোকানে ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকবে। ৪. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ৫. উচ্চ শব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো, প্রতিযোগিতা, জয় রাইড এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ। ৬. আগত নারী পর্যটকদের কোনো ধরনের ইভটিজিং বা উত্ত্যক্ত করা যাবে না। ৭. আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হোটেল ও মোটেলগুলোতে ইনডোর অনুষ্ঠানের তথ্য এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে ডিএসবিকে অবহিত করতে হবে।
পর্যটকদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানিয়েছেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত, হোটেল জোন, পর্যটন স্পট ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিধি-নিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।