সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মিনহাজ। ব্যাপক ক্ষোভের মুখে তিনি শেষ পর্যন্ত তার পোস্টটি মুছে ফেলে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বিতর্কিত পোস্টের মূল বক্তব্য মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পরপরই মিনহাজ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। বিতর্কিত ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জকসু নির্বাচনকে ভয় পেয়েই কি আজকে ভোরে খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘোষণা?’ তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, একটি রাজনৈতিক দলের মহাসমাবেশ স্থগিত হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জকসু) নির্বাচনে পুঁজি করার জন্য মৃত্যুর ঘোষণা তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। মিনহাজ তার পোস্টে লেখেন, 'শেষ পর্যন্ত নিজের ছেলের থেকে লাশের রাজনীতির শিকার হওয়া থেকে মুক্তি পেলেন না।'
শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ডাকসু নেতার এমন সংবেদনশীল মন্তব্যের পর তার পোস্টের স্ক্রিনশট দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই মন্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান তার প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে সকাল থেকেই হতবিহ্বল ছিলাম। এই ডাকসু নেতার পোস্ট দেখার পর আর কিছু বলার নাই।’ অন্যদিকে, আরেক শিক্ষার্থী তবিবুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘ন্যূনতম কৃতজ্ঞতাবোধ বা ভদ্রতা থাকলে এই ধরনের কথা মুখে আসত না।’
নেতার দুঃখ প্রকাশ ও পোস্ট প্রত্যাহার চর্তুদিকে সমালোচনার ঢেউ উঠলে ডাকসু নেতা আবদুল্লাহ আল মিনহাজ তার বিতর্কিত পোস্টটি তাৎক্ষণিক মুছে ফেলেন। তিনি ক্ষমা চেয়ে আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘জকসু নির্বাচন স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আমি পূর্বে যে পোস্ট করেছিলাম, সেটির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভুলটি সবাইকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও একজন নেতার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে ক্যাম্পাসে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।