বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্তিম বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা (High-security) ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রয়াত এই নেত্রীর জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া চলাকালীন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিপুল জনসমাগম সুশৃঙ্খল রাখতে রাজধানীতে মোট ২৭ প্লাটুন বিজিবি (Border Guard Bangladesh) মোতায়েন করেছে সরকার।
কৌশলগত পয়েন্টে বিজিবির অবস্থান
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন কার্যক্রমকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জিয়া উদ্যান সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন (Deployment) করা হয়েছে। জানাজায় আসা সাধারণ মানুষ ও ভিভিআইপিদের (VVIP) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা।
জানাজা ও দাফনের সময়সূচি
বিএনপি ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই জানাজায় দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রধান উপদেষ্টার দফতর
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকারিভাবে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে জানানো হয়েছে যে, জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থান মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রয়োজনীয় সকল আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন। বিশাল এই জমায়েত সামলাতে ট্রাফিক পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটও কৌশলগতভাবে (Strategically) দায়িত্ব পালন করবে।
একটি যুগের অবসান
দীর্ঘদিন রোগশয্যায় থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা রাজধানীতে জড়ো হচ্ছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানাজা ও দাফন ঘিরে পুরো এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি (Surveillance) বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাবও মোতায়েন থাকবে।