দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ নেতাকে বহিষ্কার করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহিষ্কারের ঘোষণার পরপরই ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টিকে 'নতুন অধ্যায়ের সূচনা' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, দলের এই সিদ্ধান্তে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন এবং জনগণের জন্য তার রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত থাকবে। মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ার পরই দল এই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের মূল কারণ বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে আসছিল। তবে রুমিন ফারহানা তার আসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ)-এ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বিএনপি এই আসনটি তাদের জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ায়, রুমিন ফারহানা মূলত দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এই আচরণকে 'দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ' হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
অন্যান্য বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দ রুমিন ফারহানা ছাড়াও বহিষ্কৃত হওয়া অন্য নেতারা হলেন— জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আব্দুল খালেক। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব এবং সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদও (চাকসু মামুন) বহিষ্কৃত হয়েছেন। কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশসহ মোট নয়জন নেতাকে একই অভিযোগে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই নেতারাও বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন।