শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় এক ভয়াবহ ও পৈশাচিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। খোকন চন্দ্র (৪৫) নামের একজন গ্রাম্য চিকিৎসককে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরিকাঘাত এবং পরবর্তীতে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা এলাকায় এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটে। নতুন বছরের প্রাক্কালে এমন নৃশংসতায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অন্ধকারে ওত পেতে থাকা হামলাকারীদের তান্ডব
আহত খোকন চন্দ্র কনেশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্রের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসা এবং ওষুধের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কাজ শেষে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন। পথে কেউরভাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁর তলপেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পেট্রল ঢেলে আগুন ও জীবন বাঁচাতে লড়াই
হামলাকারীরা কেবল লুটপাট করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং খুনের উদ্দেশ্যে খোকন চন্দ্রের শরীরে পেট্রল (Petrol) ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর শরীরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে অসহ্য যন্ত্রণায় এবং জীবন বাঁচাতে তিনি পার্শ্ববর্তী একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। তাঁর আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ছুরিকাঘাতের ফলে খোকনের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং পেট্রলের আগুনে তাঁর শরীরের একটি বড় অংশ দগ্ধ হয়েছে। সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানান। উন্নত চিকিৎসার জন্য এবং জীবন বাঁচাতে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (DMCH) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের (Refer) পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশি তদন্ত ও বিচার দাবি
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি একটি অত্যন্ত বর্বরোচিত হামলা। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নাকি কোনো পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।
এদিকে, এই অমানবিক ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন খোকন চন্দ্রের স্ত্রী সীমা দাস। তিনি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, "আমার স্বামী একজন নিরীহ মানুষ। তাঁকে যারা এমনভাবে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে, আমি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
শীতের রাতে এমন নজিরবিহীন হামলায় ডামুড্যা এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীরা পার পাবে না।