ক্যালেন্ডারের পাতায় শুরু হলো নতুন বছর ২০২৬। তবে নতুন বছরের প্রথম সূর্যদয়কে আড়াল করে রেখেছে পৌষের ঘন কুয়াশা। উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় রাজধানী ঢাকায় জেঁকে বসেছে শীত। বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই মৌসুমের অন্যতম শীতলতম সকাল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, ভোরের দিকে তাপমাত্রার এই পতন জনজীবনে কনকনে ঠান্ডার আমেজ তৈরি করেছে।
কুয়াশার চাদরে ঢাকা ‘মেগাসিটি’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ঢাকার বাতাসে জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতা (Humidity) ছিল রেকর্ড ৯৫ শতাংশ। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘন কুয়াশা (Thick Fog) দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এর ফলে ভোরের আলো ফুটলেও চারপাশ ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা (Visibility) কমে আসায় সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে।
পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ও সতর্কতা
আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে যে, মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বিরাজ করতে পারে। এই ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল (Flight Operations), অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুয়াশার প্রকোপে বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ‘ট্রাফিক শিডিউল’ বিপর্যস্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুপুরের পর কিছুটা স্বস্তির পূর্বাভাস
শীতের তীব্রতা থাকলেও দুপুরের দিকে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনের প্রথমার্ধে আকাশ মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের বেলা শীতের প্রকোপ কিছুটা কম অনুভূত হবে। গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজ কিছুটা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাদেশের পরিস্থিতি: শুষ্ক আবহাওয়া ও হিমেল বাতাস
সারাদেশের আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। তবে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে শরীরে শীতের কামড় অনুভূত হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় শীতের তীব্রতা শহরের তুলনায় অনেক বেশি থাকবে। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিটে এবং কাল শুক্রবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের (Cold Wave) সরাসরি সতর্কবার্তা না থাকলেও জানুয়ারি মাসে শীতের এমন দাপট স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন বছরের শুরুতে এমন কনকনে ঠান্ডা শ্রমজীবী মানুষের জন্য ভোগান্তি বাড়ালেও শীতপ্রেমীদের জন্য বয়ে এনেছে এক ভিন্ন আমেজ।