কূটনৈতিক হৃদ্যতা ও সার্ক ইস্যু দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত এবং দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নমন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC)-কে আরও সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় অংশগ্রহণ ও সৌজন্য মালদ্বীপের বিশেষ দূত ড. আলী হায়দার আহমেদ মূলত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা সফরে এসেছেন। এই সংক্ষিপ্ত ও বিশেষ সফরের জন্য প্রধান উপদেষ্টা মালদ্বীপের মন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। শোকের আবহে আয়োজিত এই সফর দুই দেশের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রবাসী শ্রমবাজার ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বৈঠকের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মালদ্বীপের অর্থনীতিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান। ড. আলী হায়দার আহমেদ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্বীকার করেন যে, মালদ্বীপের সমাজ ও অর্থনীতির অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি মালদ্বীপের শ্রমবাজারে (Labor Market) বাংলাদেশিদের দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি, মালদ্বীপের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য যে, মালদ্বীপের স্বাস্থ্য খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নে (Human Capital Development) বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
আঞ্চলিক সংহতি ও সার্কের প্রাসঙ্গিকতা বৈঠকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সার্কের গুরুত্ব পুনরুল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “মালদ্বীপ বাংলাদেশের এক অকৃত্রিম বন্ধু। দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধির জন্য সার্কের মতো সংস্থাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা সময়ের দাবি।” প্রধান উপদেষ্টা তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সার্ক এখনও দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে ‘Regional Integration’ বা আঞ্চলিক সংহতির প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও নির্বাচন প্রসঙ্গ বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা দেশের বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মালদ্বীপের দূতকে অবহিত করেন। ড. আলী হায়দার আহমেদ বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে মালদ্বীপের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন এবং শুভকামনা জানান।
এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কেবল দুই দেশের সম্পর্ককেই সুসংহত করেনি, বরং দক্ষিণ এশীয় প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নেতৃত্বশীল ভূমিকার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দক্ষতা উন্নয়ন (Skill Development), শিক্ষা বিনিময় এবং কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ আগামী দিনে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।