• দেশজুড়ে
  • কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী: কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন

কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী: কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী: কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন

হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন, হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় স্থবির ঢাকা; আগামী সপ্তাহে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা আবহাওয়া দপ্তরের।

সাদা চাদরে ঢাকা রাজধানী বছরের শুরুতেই প্রকৃতির রুদ্ররূপে কার্যত থমকে গেছে রাজধানী ঢাকা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার কবলে পড়েছে পুরো শহর। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, কয়েক হাত দূরের পথও দেখা যাচ্ছিল না। শীতের এই তীব্র দাপটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বইছে হিমেল হাওয়া, যা রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ২০২৬ সালের এই দ্বিতীয় দিনটি ঢাকার মানুষের জন্য এক ভিন্নতর প্রতিকূল অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে।

বিঘ্নিত যোগাযোগ ও লো ভিজিবিলিটি (Low Visibility) সকাল থেকেই রাজধানীর রাজপথগুলোতে যানবাহনের চলাচল ছিল ধীরগতির। কুয়াশার কারণে রাস্তায় ‘Visibility’ বা দৃশ্যমানতা কমে আসায় চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাকগুলোকে রাজপথে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ছুটির দিন হওয়ায় ট্রাফিক (Traffic) চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও, পণ্যবাহী যান এবং জরুরি সেবার যানবাহনগুলো কুয়াশার কারণে শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে কুয়াশার দাপট আরও বেশি ছিল, যা দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ভোগান্তিতে কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসের কারণে নাগরিক জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। একাধিক গরম কাপড় গায়ে জড়িয়েও শীতের কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিকশাচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। মোটরসাইকেল চালক হাসান আলী জানান, “জ্যাকেট, গ্লাভস দিয়েও শীত সামলানো যাচ্ছে না। কুয়াশার জন্য সামনে কিছু দেখা যায় না, প্রতি মুহূর্তে দুর্ঘটনার ভয় (Risk factor) কাজ করে।” অন্যদিকে, রিকশাচালক রহিম মিয়ার আক্ষেপ, “ঠান্ডায় হাত-পা জমে আসে, স্টিয়ারিং ধরা যায় না। যাত্রীও কম, অথচ পেটের দায়ে বের হতে হয়েছে।”

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস ও শৈত্যপ্রবাহ (Cold Wave Alert) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (Meteorological Department) জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের মতে, আগামী সোমবার পর্যন্ত তাপমাত্রা কিছুটা ওঠা-নামা করলেও সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দেশজুড়ে তীব্র ‘Cold Wave’ বা শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেশের অন্তত ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

তালিকায় থাকা জেলাগুলো হলো— মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলবীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা। এসব অঞ্চলের তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ার ‘Weather Forecast’ দিয়েছে অধিদপ্তর।

বিপর্যস্ত প্রান্তিক জনজীবন শীতের এই আকস্মিক প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও শ্রমজীবীরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে রাজধানীর বস্তি এলাকা এবং ফুটপাতে বসবাসকারী মানুষদের জীবন এখন এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার এই মেলবন্ধনে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট এবং কোল্ড-রিলেটেড ডিজিজ (Cold-related diseases) বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। শীতের এই সময়টিতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখা এবং কুয়াশার মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tags: bangladesh weather cold wave weather forecast dhaka weather public life visibility alert winter fog traffic update meteorological report winter 2026