দেশের ওপর দিয়ে বর্তমানে যে শীতের তীব্রতা বইছে, তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ঢাকা শহরে। রাতের শেষ প্রহর থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ে ছিল এই মহানগরী। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত দেশের অন্তত ৭টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে, যা রাজধানীবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তবে, কিছুটা স্বস্তির খবর হলো—টানা কয়েকদিন পর আজ রাজধানীতে রোদের দেখা মিলেছে, যার ফলে কুয়াশা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে।
ঢাকায় কুয়াশার চিত্র ও আবহাওয়াবিদের বক্তব্য
আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, শুক্রবার রাজধানীসহ অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় কুয়াশা ছড়িয়ে আছে। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু অংশ ছাড়া দেশের অন্যত্রও কুয়াশা রয়েছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের প্রায় পুরোটাই কুয়াশাচ্ছন্ন থাকার পর দু’দিন কিছুটা কুয়াশামুক্ত থাকলেও আজ আবার হঠাৎ ঘন কুয়াশা ফিরে এসেছে।
এই হঠাৎ কুয়াশার কারণ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, শীতকালে কুয়াশা থাকা স্বাভাবিক, তবে এত বেশি হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে ‘পশ্চিমা লঘুচাপ’-এর অনুপস্থিতি। সাধারণত প্রতি মাসে দুবার এই লঘুচাপ এলেও গত ডিসেম্বর থেকে এর দেখা নেই। লঘুচাপ থাকলে বৃষ্টি হয়, তাতে কুয়াশা কমে। তিনি আরও জানান, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা কমলেও ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন অংশে তা এখনও বিদ্যমান। তবে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা কমে আসতে পারে।
১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে যা জানাল আবহাওয়া অফিস
সারা দেশের জন্য দেওয়া আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী—অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে যে, রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।