জেলখানায় কারসাজির অভিযোগ
রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, খালেদা জিয়া সুস্থ অবস্থায় জেলখানায় প্রবেশ করলেও ফিরে আসেন গুরুতর অসুস্থ, প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "জেলখানার ভেতরে তার ওষুধ, তার খাবারে নানাভাবে কারসাজি করা হয়েছে। তিনি যাতে তিলে তিলে ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃশেষ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, সেই ব্যবস্থাটাই সেদিন করা হয়েছিল; তৎকালীন সরকারে যারা ছিলেন, তারা সেই কাজটি করেছে। এই কারণে আমি বলি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। চক্রান্ত করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।"
'জাতির মা' এবং অসাম্প্রদায়িক নেতা
রিজভী খালেদা জিয়াকে 'সারা জাতির জন্য এক বিশাল আশ্রয় ও প্রেরণার প্রতীক' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং 'জাতির মা' উপাধি দেন। তিনি বলেন, "ভয়ংকর দমন-পীড়নের সময়েও তার উপস্থিতিই বিএনপির নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছে। তিনি দেশ ছেড়ে যাননি, হুমকির মুখেও জনগণের পাশে থেকেছেন। সে কারণেই তিনি সত্যিকার অর্থে ‘জাতির মা’ হতে পারেন।"
তিনি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চরিত্রের প্রশংসা করে বলেন, তিনি যেমন ছিলেন ধর্মপ্রাণ, তেমনই ছিলেন প্রচণ্ড রকমের অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক ও মানবিক নেতা। তার কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ আশ্রয় পেত এবং তিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণের জবাবেও শালীনতা বজায় রেখেছিলেন।
রাজনৈতিক অঙ্গীকার রক্ষার দৃষ্টান্ত
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, রাজনীতি মানে শুধু উচ্চস্বরে কথা বলা নয়, বরং জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করা। খালেদা জিয়া এই দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বিশ্বাস করেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে না থাকলেও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে তিনি চিরস্থায়ীভাবে বাস করবেন।
অন্যান্য নেতার মন্তব্য
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান 'রেইনবো নেশন' গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং বিএনপি আগামীতে সবাইকে নিয়ে পথ চলবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি ও বিএনপির প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অপর্ণা রায় দাস বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারা তাদের রাজনৈতিক অভিভাবককে হারালেন এবং এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তিনি জিয়া পরিবারের পাশে থেকে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা দেবাশীষ রায় মধু, মাহাবুবুল ইসলাম, জাপান বিএনপির উপদেষ্টা কাজী এনামুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, ছাত্রদলের ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সুরঞ্জন ঘোষ, গৌতম মিত্র, সুভাষ দাস, জয়দেব রায়, বিশ্বজিৎ ভদ্র, সীমান্ত দাস প্রমুখ।