হত্যার মাধ্যমে দেশকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদির ছোট বোন মাসুমা হাদি জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁর ভাইকে হত্যা করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে হাজার বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ওসমান হাদি যদি আর পাঁচ বছর বেঁচে থাকতেন, তবে দেশ সাধারণ মানুষের 'আপামর জনতার বাংলাদেশ'-এ পরিণত হতো। তিনি আরও বলেন, তাঁর ভাইয়ের কাজগুলো বাঁচিয়ে রাখলে ওসমান হাদিও জীবিত থাকবেন।
ওসমান হাদির হত্যা ও স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গ
মাসুমা হাদি প্রশ্ন তোলেন, ওসমান হাদিকে কি ভারত হত্যা করেছে? তাঁর সরাসরি অভিযোগ, শুধু আওয়ামী লীগই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী নয়, এর পিছনে অনেক এজেন্ট ও দেশীয় রাজনীতিবিদ কাজ করেছে। তিনি বলেন, ওসমান হাদির মাথায় গুলির মাধ্যমে আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ওসমান হাদি বেঁচে থাকলে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতা দেখিয়ে কোনো কাজ করতে পারতো না এবং টাকা দিয়ে কাউকে কেনা যেত না।
বিপ্লবী সরকার গঠন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে মন্তব্য
মাসুমা হাদি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের একটি বিপ্লবী সরকার হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা কেন হলো না? তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, কেন চুপ্পুর হাতে ক্ষমতা দেওয়া হলো। তাঁর মতে, চুপ্পু স্বৈরশাসক হাসিনার লোক এবং তাঁর কাছে শপথ পাঠ করার ফলেই আন্দোলন ব্যাহত হয়। তিনি মাথা উঁচু করে বাংলাদেশে দাঁড়াতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপ্লবী সরকার হতে হবে এবং সেই সরকার যদি ওসমান হত্যার বিচার না করে, তবে আর কোনো ওসমান জন্ম নেবে না, কোনো পরিবারই আর কোনো ওসমানকে দেশে রাখবে না।
নির্বাচন ও অর্থের খেলা বন্ধের আহ্বান
মাসুমা হাদি বলেন, ওসমান শুধু বাংলাদেশের নন, তিনি সারা বিশ্বের। তিনি আসন্ন নির্বাচনে হাজার হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে টাকা দিয়ে মিছিল করানো বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, এটি বন্ধ হলে ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসবে এবং 'টাকার খেলা' থাকবে না। নির্বাচনে কোনো মার্কা দেখে নয়, যারা বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করবে, তাদেরকেই ভোট দিতে হবে।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান প্রসঙ্গে
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতের যত রাজাকার আছে, তারা মিলে বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যা করেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারতের কিছু মুখোশধারীর জন্য কেন তারেক রহমান দেশে আসতে পারলেন না।
শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ও দাফন
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়। পরে তাঁকে দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে) দাফন করা হয়।