নতুন বছরের শুরুতেই দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের সংশোধন নিয়ে এল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) মূল্য হ্রাসের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে নতুন এই কার্যকর মূল্য তালিকায় স্বর্ণ ও রুপা কেনাবেচা হচ্ছে।
স্বর্ণের নতুন দর: কত টাকায় মিলছে কত ক্যারেট?
গত ১ জানুয়ারি রাতে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, সব ক্যারেটের স্বর্ণের দাম গড়ে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, মানভেদে স্বর্ণের দামগুলো হলো:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকায়।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি মিলছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকায়।
সনাতন পদ্ধতি: পুরনো বা সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।
ভ্যাট ও মজুরির হিসাব: যা মনে রাখতে হবে ক্রেতাদের
বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, উল্লিখিত এই দামের সঙ্গে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ ভ্যাট (Value Added Tax) যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া অলঙ্কার তৈরির ক্ষেত্রে বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি (Labor Cost) যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার শৈল্পিক কারুকার্য বা ‘Design’ এবং গুণমানভেদে মজুরির এই হার ভিন্ন হতে পারে।
পেছনের কথা: বিগত বছরের অস্থিরতা
২০২৫ সালটি ছিল স্বর্ণের বাজারের জন্য অন্যতম অস্থির একটি বছর। গত এক বছরে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং কমানো হয়েছিল মাত্র ২৯ বার। নতুন বছরের শুরুতে এই দাম কমার প্রবণতা সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য, এর আগে ৩১ ডিসেম্বরও স্বর্ণের দাম এক দফায় ২ হাজার ৭৪১ টাকা কমানো হয়েছিল।
রুপার বাজারেও বড় ছাড়
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় পর রুপার দাম ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে বাজুস। ২০২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। ২০২৬ সালে রুপার মূল্যে এটিই প্রথম কোনো পরিবর্তন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার মধ্যে স্থানীয় বাজারে এই দরপতন গহনা ব্যবসায় গতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে এই মূল্য হ্রাস মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।