গণভোটের গুরুত্ব ও জনগণের অধিকার
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট সদরের বুরহাননগর গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিগত ৫৫ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতাসীনদের কথায় পরিচালিত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সাধারণ নাগরিক ও ভোটারদের চিন্তা ও মতের প্রতিফলন ঘটেনি। এবার সুযোগ এসেছে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের বুঝে নেওয়ার। নিজেদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গণভোটে অংশ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র রাস্তাঘাট, ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণই উন্নয়ন নয়; মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া এবং মত প্রকাশের অধিকার দেওয়াই হলো আসল উন্নয়ন।
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা ও নৈতিক দায়িত্ব
উপদেষ্টা আরও জানান, এই গণভোটে মোট ১১টি প্রশ্ন রয়েছে, যার প্রত্যেকটিতেই জনগণের চাওয়া ও মনের কথার প্রতিফলন ঘটেছে। দেশের নিরপেক্ষ ও গুণী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্কার কমিশনের তৈরি করা এই প্রস্তাবগুলো সবার অধিকার নিশ্চিতের জন্য প্রণীত হয়েছে। তিনি বলেন, “এজন্য গণভোটে অংশ নেওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়া সবার নৈতিক দায়িত্ব। এ দেশে আর কখনো কোনো দানব তৈরি করতে না চাইলে আগামীর বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি”।
অতীতে ফিরে না যাওয়ার অঙ্গীকার
উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, “আমরা আর অতীতে ফিরে যেতে চাই না। আমরা সবাই মিলে দেশ পরিচালনা করতে চাই। দীর্ঘদিন রাষ্ট্রকে কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আর দেওয়া যাবে না। জনগণের ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার এবারই মোক্ষম সময়”। তিনি উপস্থিত সবাইকে নিজেদের সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও সচেতন করার এবং ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথি
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উঠান বৈঠকে আরও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আলতাফ উল আলম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম ।