• আন্তর্জাতিক
  • ভেনেজুয়েলায় মার্কিন কমান্ডোদের ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’: প্রেসিডেন্ট মাদুরো বন্দি, রক্তক্ষয়ী অভিযানে নিহত অন্তত ৪০

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন কমান্ডোদের ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’: প্রেসিডেন্ট মাদুরো বন্দি, রক্তক্ষয়ী অভিযানে নিহত অন্তত ৪০

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন কমান্ডোদের ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’: প্রেসিডেন্ট মাদুরো বন্দি, রক্তক্ষয়ী অভিযানে নিহত অন্তত ৪০

আকাশসীমা দখল করে পেন্টাগনের নজিরবিহীন বিমান হামলা; মাদুরোর বিরুদ্ধে কোকেন পাচারের অভিযোগ তুলে লাতিন আমেরিকায় বড় পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের।

লাতিন আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের এই নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে সেনাসদস্যের পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

আকাশপথের দখল ও নজিরবিহীন এয়ার স্ট্রাইক

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার মাটিতে মার্কিন ‘Special Forces’ নামার আগে দেশটির ‘Air Defense System’ বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দিতে বিশাল আকারে আকাশপথে হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, অন্তত ১৫০টি মার্কিন যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়। মূলত সামরিক হেলিকপ্টারগুলো যাতে নিরাপদে মাদুরোর অবস্থানে সেনা নামাতে পারে, তার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই এই ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। পেন্টাগনের এই কৌশলী ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণে ভেনেজুয়েলার সামরিক অবকাঠামো মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায়।

মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি আটক

শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই মার্কিন কমান্ডোরা ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর শক্তিশালী অবস্থানে হানা দেয়। অভিযানে নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। এরপরই তাদের একটি বিশেষ বিমানে করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে একটি ‘শক্তিশালী ও চমকপ্রদ প্রদর্শন’ (Spectacular Display) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় একটি ‘Safe and Proper Transition’ বা নিরাপদ রাজনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই দেশটির প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবে।

কোকেন পাচার ও গুরুতর আইনি অভিযোগ

মাদুরোকে আটকের পরপরই নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটররা একটি গোপন ‘Indictment’ বা অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের একটি বিশাল আন্তর্জাতিক চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। মূলত এই আইনি ভিত্তি ব্যবহার করেই হোয়াইট হাউস মাদুরোকে আটকের সামরিক নির্দেশ কার্যকর করে। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না করা হলেও, সামরিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী এবং মার্কিন কমান্ডোদের মধ্যে তীব্র সম্মুখযুদ্ধের ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সার্বভৌমত্ব বিতর্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপকে ‘International Law’ বা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন অনেক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক। মার্কিন কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই ‘Military Intervention’ চালানো হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে এই ঘটনার ফলে চরম অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা শঙ্কা (Regional Instability) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শাসনভার

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, তারা ভেনেজুয়েলায় কোনো দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্ব চায় না, তবে মাদুরো পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা সাজাতে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মার্কিন সেনাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই অভিযানের ফলে গ্লোবাল ‘Market Value’ এবং তেলের বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে। মাদুরোর বন্দি হওয়া এবং মার্কিন বাহিনীর এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে যে ‘Geopolitical Shift’ শুরু হয়েছে, তার রেশ কতদূর গড়ায় এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Tags: international law donald trump white house nicolas maduro venezuela crisis latin america us military drug trafficking air strike maduro captured