হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (OC) প্রকাশ্যে হুমকি প্রদানের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের কার্যক্রম ও জামিন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৮টায় কড়া পুলিশ পাহারায় মাহদী হাসানকে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। সকাল ৯টার দিকে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। মাহদীর আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
হবিগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফুল তালুকদার গণমাধ্যমকে মাহদীর জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোন ধারায় বা কোন মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যে ঘটনায় উত্তপ্ত জেলা রাজনীতি
মাহদী হাসানের গ্রেফতার ও জামিনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক ঘণ্টা হবিগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে (Viral Video)। ওই ভিডিওতে মাহদী হাসানকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে তীব্র বাগ্বিতণ্ডায় জড়াতে এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে হুমকিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
পুলিশি সূত্র অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মকর্তার ওপর পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং জনসম্মুখে হেনস্তা করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় জেলা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে মাহদী হাসানকে আটক করা হয়। যদিও এই গ্রেফতারের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার বা সংশ্লিষ্ট থানার ওসির আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
আইনের শাসন বনাম ছাত্র নেতৃত্ব: মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মাহদীর গ্রেফতারের পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছে, আন্দোলনের মুখে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আইনের শাসন (Rule of Law) প্রতিষ্ঠা করতে হলে কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা ঠিক নয়। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দাবি, ঘটনাটির গভীরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছাত্র নেতাদের এই ধরনের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই সংবেদনশীলতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
মাহদী হাসানের আদালত হাজিরাকে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার অনুসারীরা আনন্দ প্রকাশ করলেও পুলিশ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি (Law and Order) নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জামিন পরবর্তী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।