সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের হারই বহাল রেখেছে সরকার। রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ফলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে যে মুনাফার হার প্রচলিত ছিল, আগামী ছয় মাসও সেই হারেই মুনাফা দেওয়া হবে।
সিদ্ধান্ত বাতিলের কারণ গত বৃহস্পতিবার সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, তা নিয়ে সর্বমহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মূলত, দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল। উচ্চ মূল্যস্ফীতির (Inflation) সময়ে এই হার কমানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে চাপ সৃষ্টি করত। এই সমালোচনার মুখে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন সাপেক্ষে প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়।
অপরিবর্তিত থাকছে যেসব হার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার আগের ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশই বহাল থাকছে। এই হার কমিয়ে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ করার যে প্রস্তাব ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নামানোর সিদ্ধান্তও বাতিল হয়েছে। এছাড়াও, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগের মতোই থাকবে। সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের মধ্যে মূলত সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার, বিশেষত স্বল্প আয়ের মানুষ এবং পেনশনাররাই প্রধান। অর্থনীতিবিদরাও স্বল্প আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে মুনাফার হার না কমানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।