জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে যেসব ছাত্র–জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব এলাকার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
ওসি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। তিনি জানান, যেসব থানা এলাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, সেসব থানার তৎকালীন ওসিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শুধু ওসিরাই নন, জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকাও করা হচ্ছে। এই তালিকা তৈরির পর তাদের নাম ধরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হবে।
ইমডেমনেটি অর্ডিন্যান্স জারির চাপ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। রিফাত রশিদ বলেন, জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি বা ইমডেমনেটি অর্ডিন্যান্স (Indemnity Ordinance) জারির জন্য তাঁরা আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করে চাপ সৃষ্টি করবেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো প্রকার তালবাহানা নয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন সরাসরি অ্যাকশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিন দফা দাবি সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানকে শুধু জামিন নয়, নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও মাহদী জামিন পেয়েছেন, রিফাত রশিদ স্পষ্ট করেন যে, এটি নিঃশর্ত মুক্তি নয় এবং তাঁদের দাবি পূরণ হয়নি।
২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
৩. জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের (সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ) সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীর ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে তাঁদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে তাঁদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা এবং ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পদোন্নতিবঞ্চিত সামরিক কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করতে হবে।