২০২৬ সালের প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে দেখা দিয়েছে আশার আলো। সূচকের বড় উত্থান এবং বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE) ইতিবাচক ধারায় বছর শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাতেই ডিএসইর প্রধান সূচক উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ‘Market Sentiment’ চাঙ্গা করে তুলেছে।
উত্থানের গ্রাফ ও লেনদেনের চিত্র
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই শেয়ার ক্রয়ের চাপে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। প্রথম এক ঘণ্টায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক DSEX ৩৯.৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯০৪ পয়েন্টে পৌঁছায়। পাশাপাশি ব্লু-চিপ শেয়ারের সূচক DS-30 এবং শরিয়াহ সূচক DSES-ও ইতিবাচক ধারায় লেনদেন হচ্ছে।
প্রথম ৬০ মিনিটে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বছরে ‘Market Value’ বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইন থেকে মূল স্রোতে ফিরতে শুরু করেছেন।
শেয়ার দরের পরিসংখ্যান
প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে দেখা গেছে, ডিএসইতে অংশগ্রহণকারী ৩৬৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১৮টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে মাত্র ১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। এই ব্যাপক ভিত্তিক উত্থানকে একটি শক্তিশালী ‘Bullish Trend’-এর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী।
সিএসইর হালনাগাদ পরিস্থিত
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (CSE) নতুন বছরের শুরুটা হয়েছে বর্ণিল। প্রথম ঘণ্টায় সিএসইর প্রধান সূচক CASPI ২৮.০৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেন হওয়া ৫৪টি কোম্পানির মধ্যে ৩৬টির দাম বেড়েছে এবং ১৪টির দাম কমেছে। সূচকের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ‘Market Recovery’ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদ্মার বুকে তিন দশক পর ‘স্বপ্নভূমি’: ২ হাজার একরের নতুন চর দখল নিতে সক্রিয় লাঠিয়াল বাহিন
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে জেগে ওঠা বিশাল চর ঘিরে নদীভাঙা মানুষের মনে আনন্দের জোয়ার; প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও সংঘাতের আশঙ্কায় বাড়ছে উদ্বেগ।
“নদী যেমন কেড়ে নেয়, তেমনি ফিরিয়েও দেয়”—প্রকৃতির এই চিরায়ত সত্য আবারও প্রমাণিত হলো পদ্মার বুকে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন মৌজা জুড়ে জেগে উঠেছে এক বিশাল চর। প্রায় দুই হাজার একর আয়তনের এই নতুন ভূখণ্ড নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া হাজারো পরিবারের মাঝে পৈতৃক ভিটেমাটি ফিরে পাওয়ার নতুন আশা জাগিয়েছে। তবে এই আনন্দ ম্লান করে দিচ্ছে প্রভাবশালী মহলের মদদপুষ্ট ‘লাঠিয়াল বাহিনী’, যারা ইতিমধ্যে চরের দখল নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।
স্মৃতি ও স্বপ্নের মিলনস্থল
সরেজমিনে দেখা গেছে, লৌহজং উপজেলার পাটলি, গাউপাড়া, রানিগাঁও, খড়িয়া এবং শরিয়তপুরের কলিকাল ও আডম মৌজার সীমানায় এই বিশাল চর জেগে উঠেছে। নব্বইয়ের দশকের প্রলয়ঙ্করী ভাঙনে যারা ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেছিলেন, আজ তাদের উত্তরসূরিরা সীমানা মাপজোক করতে চরে ভিড় করছেন। উর্বর এই পলিমাটিতে ইতিমধ্যে চাষাবাদ শুরু করে ‘Agricultural Revolution’ বা সবুজ বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।
প্রবীণ খালেক মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “৩০ বছর আগে এই নদী আমার অস্তিত্ব মুছে দিয়েছিল। ভাবিনি মরার আগে আবার নিজের মাটির ঘ্রাণ পাব।”
দখলবাজি ও সংঘাতের আশঙ্কা
চরের বিপুল পরিমাণ উর্বর জমি এখন স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমিদস্যুদের নজর কেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চরের জমি দখলে নিতে একদল লাঠিয়াল বাহিনী পর্দার আড়ালে থেকে সক্রিয় হচ্ছে। আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের জমি হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এর ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। এলাকাটি মুন্সীগঞ্জ ও শরিয়তপুর জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি পক্ষ।
প্রশাসনের প্রতিশ্রুত
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন চরের প্রকৃত মালিকরা। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) ফারজানা ববি মিতু জানিয়েছেন, চরের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, “জেগে ওঠা চরের প্রকৃত অবস্থান ও মালিকানা নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। কোনো প্রকার অবৈধ দখলদারিত্ব বরদাশত করা হবে না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এই চরের জমি বণ্টন এবং কৃষিকাজে ব্যবহার করা গেলে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলবে। তবে তার আগে প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং লাঠিয়ালদের দৌড়ঝাঁপ বন্ধ করা।