একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন (National Parliament Election) এবং গণভোটের (Referendum) তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট (Writ) দায়ের করা হয়েছে। এই রিটের মাধ্যমে ১১ ডিসেম্বর জারি হওয়া তফসিল বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা অবিলম্বে স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে দেশে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা চেয়েছে রিটকারী পক্ষ।
রিটকারীর যুক্তি: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয়, চাই তত্ত্বাবধায়ক
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিটটি দায়ের করেছেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) সহ নির্বাচন সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী (Respondent) করা হয়েছে।
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের মূল যুক্তি হলো, দেশের সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের (Interim Government) অধীনে নির্বাচনের কোনো কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতে পারে কেবলমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা নির্বাচিত সরকারের অধীনে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্থায়ী সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করা সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেই তিনি রিটে দাবি করেছেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, এই রিট মামলার উপর আদালতের যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা আসন্ন নির্বাচনের সময়সূচি (Schedule) ও সার্বিক পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি মনে করছেন, দুটি ভিন্ন প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া একই দিনে পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) জন্য যেমন কঠিন, তেমনই এর ফলে ভোটারেরাও বিভ্রান্ত হতে পারেন। এই দ্বৈত তফসিলের বৈধতা নিয়েও আইনি বিতর্ক রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে, দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে এই রিটটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সকলের নজর এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে।