• জাতীয়
  • সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে অপপ্রচারে কঠোর হুঁশিয়ারি: বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গুনতে হবে আদালত অবমাননার মাসুল

সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে অপপ্রচারে কঠোর হুঁশিয়ারি: বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গুনতে হবে আদালত অবমাননার মাসুল

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে অপপ্রচারে কঠোর হুঁশিয়ারি: বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গুনতে হবে আদালত অবমাননার মাসুল

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও বেঞ্চ গঠন নিয়ে ছড়ানো তথ্যের কড়া জবাব; সংবাদ প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাইয়ের দ্ব্যর্থহীন নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্তম্ভ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে কোনো ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর কিংবা ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আদালত অবমাননার (Contempt of Court) দায়ভার গ্রহণসহ বিচারিক প্রক্রিয়ায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। আধুনিক ডিজিটাল যুগে তথ্যের দ্রুত প্রবাহের সুযোগ নিয়ে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

সম্প্রতি বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং বেঞ্চ গঠন নিয়ে কিছু স্পর্শকাতর সংবাদ প্রচারিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, জ্যেষ্ঠতা (Seniority) লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করায় আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এবং কাঙ্ক্ষিত বেঞ্চ না পাওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি ছুটিতে গিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এই তথ্যগুলোকে 'সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তকর ও দুঃখজনক' হিসেবে অভিহিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের সংবাদ জনমনে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করে এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি (Institutional Image) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

দুই বিচারপতির ছুটির প্রকৃত কারণ

গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বিপরীতে প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো ক্ষোভ থেকে নয়, বরং তাঁর মায়ের অসুস্থতার কারণে ছুটি গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ বর্তমানে অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বলছে, বিচারকদের ব্যক্তিগত বা শারীরিক অসুস্থতাজনিত বিষয়কে বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রচার করা কেবল অনৈতিক নয়, বরং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

তথ্য যাচাই ও জবাবদিহিতার কড়া নির্দেশ

ভবিষ্যতে এ ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে দেশের সকল গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত যে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তার বস্তুনিষ্ঠতা ও যথার্থতা যাচাই করতে হবে। এর জন্য সুপ্রিম কোর্টের 'মিডিয়া ফোকাল পারসন' (Media Focal Person) অথবা 'রেজিস্ট্রার জেনারেল' (Registrar General) কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, সঠিক সূত্র থেকে তথ্য যাচাই না করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ালে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মী বা সংবাদ সংস্থাকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হবে। দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসন কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্দেশনার ফলে বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সংবাদে আরও স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল মিডিয়ায় (Digital Media) ক্লিকবেইট বা সেনসেশনাল নিউজ প্রচারের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তাতে এই কড়া বার্তা একটি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।

Tags: supreme court fake news media ethics legal action bangladesh judiciary court news contempt of court justice news registrar general justice leave