অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
চাঁদপুর শহরের স্টেডিয়াম রোড এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন অয়েল বা মোবিল বিক্রির দায়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে 'মেসার্স আলম ব্রাদার্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মূলত জনস্বার্থ রক্ষা এবং যানবাহনের নিরাপত্তার খাতিরে এই Market Monitoring কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
যৌথ অভিযান ও বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আভিযানিক দলকে সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদান করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, মেসার্স আলম ব্রাদার্স দীর্ঘদিন ধরে Expired বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া লুব্রিকেন্ট বাজারজাত করে আসছিল। অভিযানে এর সত্যতা মেলায় হাতে-নাতে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ মোবিল জব্দ করা হয়।
ইঞ্জিন অয়েলের গুণগত মান ও ঝুঁকি
সাধারণত যানবাহনের ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে মানসম্মত Engine Oil অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ লুব্রিকেন্ট ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা প্রকারান্তরে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় সাধারণ গ্রাহকদের প্রতারিত করে আসছিল। জব্দকৃত মোবিলগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে এগুলো পুনরায় বাজারে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে।
ভোক্তা অধিকারের কড়া বার্তা
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান গণমাধ্যমকে জানান, “ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা
চাঁদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক এলাকায় প্রশাসনের এমন তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও যানবাহন মালিকরা। তারা মনে করছেন, নিয়মিত এমন তদারকি চললে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ করার জন্য ভোক্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।