সৎকারে বাধা এবং উত্তেজনার সৃষ্টি উল্লাপাড়া ঝিকিড়া গ্রামের স্বর্গীয় গনেষ বনিকের স্ত্রী মিনা বনিকের (বৃদ্ধা) মরদেহ সৎকার নিয়ে এই সমস্যার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে মরদেহ সৎকার করতে গেলে ঘোষগাঁতী গ্রামের বাবলু ভৌমিক নামক এক ব্যক্তি বাধা দেন। তার এই বাধায় সৎকার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সৎকারে বাধা পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সনাতনী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষেরা মরদেহ নিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদে গিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা এ সময় ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এবং তাদের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ সৎকারের দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে এই সৎকারে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সৎকার সম্পন্ন উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃতের পরিবার মহাশ্মশানের চাবি চাইলে অভিযুক্ত বাবলু ভৌমিক তাৎক্ষণিক চাবি না দেওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে চাবির ব্যবস্থা করা হলে ওই মহাশ্মশানেই মরদেহ সৎকার করা সম্ভব হয়।
দীর্ঘদিনের বিরোধের জের জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর উল্লাপাড়া মহাশ্মশানের নাম পরিবর্তন করে ‘ঘোঁষগাঁতী হিন্দু মহাশ্মশান’ নামকরণ করা হয়। এই নামকরণ নিয়েই হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই ঘটনাটি সেই বিরোধেরই অংশ বলে মনে করছেন অনেকে। পুরো ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।