• দেশজুড়ে
  • সীতাকুণ্ডে দুই জাহাজভাঙা শ্রমিকের 'রহস্যজনক' মৃত্যু: ডাকাতি নাকি দুর্ঘটনা?

সীতাকুণ্ডে দুই জাহাজভাঙা শ্রমিকের 'রহস্যজনক' মৃত্যু: ডাকাতি নাকি দুর্ঘটনা?

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সীতাকুণ্ডে দুই জাহাজভাঙা শ্রমিকের 'রহস্যজনক' মৃত্যু: ডাকাতি নাকি দুর্ঘটনা?

উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশবিশেষ, ফায়ার সার্ভিস ও শিল্প পুলিশের বক্তব্যে ব্যাপক ভিন্নতা; ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরার নৌঘাট এলাকায় সাগর উপকূল থেকে দুই জাহাজভাঙা শ্রমিকের লাশ উদ্ধারের ঘটনা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সকালে ফায়ার সার্ভিস খণ্ডিত অবস্থায় একজনের মরদেহসহ দু'জনের লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন সাইফুল ইসলাম ও আবদুল খালেক। তারা গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন।

উদ্ধার ও পরিচয় সোমবার সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল সাগরের উপকূল থেকে শ্রমিক দু'জনের লাশ উদ্ধার করে। নিহত সাইফুল ইসলামের লাশটি ছিল খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায়। উদ্ধার হওয়া লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিবৃতিতে ব্যাপক ভিন্নতা এই দুই শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও শিল্প পুলিশের বক্তব্যে বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল মামুনের দাবি, কারখানার উপকূলীয় এলাকা পাহারা দেওয়ার সময় শ্রমিকরা ডাকাতদলের হামলার শিকার হন। ডাকাতদের হামলায় এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন এবং বাকিরা সাগরে পড়ে যান। এতে দু'জনের মৃত্যু হয় এবং আরও দু'জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, শিল্প পুলিশের পরিদর্শক নাহিদ হাসান মৃধা প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানান, নতুন জাহাজ বিচিং করার সময় একটি দুর্ঘটনার কারণে নৌকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুর্ঘটনার ফলেই দু'জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কেআর শিপ মেকিং ইয়ার্ডের ম্যানেজার আবু সাজ্জাদ মুন্নার বক্তব্য কিছুটা ফায়ার সার্ভিসের দাবির কাছাকাছি। তিনি বলেন, রোববার (০৪ জানুয়ারি) রাতে ২০-২৫ জনের ডাকাতদল নৈশ প্রহরীর ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। দু'জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও তাদের মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ এখনো জানা যায়নি। সীতাকুণ্ড থানার ওসি তদন্ত মোহাম্মদ আলমগীরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই স্পষ্ট নয়।

জাহাজভাঙা শিল্পের ঝুঁকি জাহাজভাঙা শিল্পের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ নতুন নয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (BILSS)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সীতাকুণ্ডের ইয়ার্ডগুলোতে মোট ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৫৮ জন শ্রমিক আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হন, যার মধ্যে চারজনের মৃত্যু ঘটেছিল (এই ঘটনার পূর্বে)। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৬৩ শতাংশই ছিল মারাত্মক প্রকৃতির। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারী লোহা বা গার্ডার পড়ে আঘাত পাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৩৫ শতাংশ। বর্ষা মৌসুম এবং কাজের চাপ বৃদ্ধির সময়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের ঝুঁকি আবারও সামনে এলো এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায়।

Tags: bnp bangladesh politics election nomination sirajganj-3 khandakar selim jahangir