আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে নিজেদের অংশগ্রহণ সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে ৮ সদস্যবিশিষ্ট ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করেছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)। নবগঠিত এই কমিটিতে আবুল হাসান রুবেলকে আহবায়ক এবং দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলুকে সদস্য সচিব (Member Secretary) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী রণকৌশল ও বিশেষ বৈঠক
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আগামী নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি এবং দলের অংশগ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে মূলত নির্বাচনের জন্য একটি ‘Strategic Blueprint’ বা কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা তৈরি, দায়িত্ব বণ্টন এবং ভবিষ্যৎ প্রচারণার রূপরেখা নিয়ে বিশদ মতবিনিময় করা হয়।
কমিটির নেতৃত্বে ও কাঠামোতে যারা রয়েছেন
গণসংহতি আন্দোলনের এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে দলের অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতাদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন:
১. আবুল হাসান রুবেল (আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী) ২. দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু (সদস্য সচিব) ৩. মনির উদ্দীন পাপ্পু (রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য) ৪. অপরাজিতা চন্দ (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য) ৫. জাহিদুর রহমান সুজন (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য) ৬. আবু রায়হান (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য) ৭. সাইফুল্লাহ সিদ্দিক রুমন (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য) ৮. গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. খালেদ হোসাইন, অব. (কেন্দ্রীয় পরামর্শক পরিষদের সদস্য)
সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি
কমিটি গঠন প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী (Executive Coordinator) আবুল হাসান রুবেল জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করতে এবং দলীয় গঠনতন্ত্র ও রাজনৈতিক নীতিমালার আলোকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যেই এই কমিটি কাজ করবে। তিনি আরও জানান, এই কমিটি প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রচারণার সমন্বয় (Campaign Coordination) এবং নির্বাচন কমিশনের সাথে লিয়াজোঁ রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের অনেক আগেই কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে গণসংহতি আন্দোলন তাদের রাজনৈতিক পরিপক্কতা এবং সুশৃঙ্খল প্রস্তুতির জানান দিল। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি দলটির নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের ছাপ রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।