ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি বা এনএডিএ-র (NADA) সাম্প্রতিক তৎপরতা। জাতীয় দলে খেলা তারকা ক্রিকেটারদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ডোপ টেস্টের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এনএডিএ-র তৈরি 'রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুল' বা আরটিপি (Registered Testing Pool)-এর নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ভারতীয় পুরুষ ও নারী দলের একাধিক মহাতারকাকে।
নজরদারিতে একঝাঁক সুপারস্টার
এনএডিএ-র তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের নামগুলো পর্যালোচনার করলে দেখা যায়, ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান প্রজন্মের প্রায় সব বড় মুখই রয়েছেন এই স্ক্যানারে। পুরুষ ক্রিকেটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব থেকে শুরু করে পেস বোলিং সেনসেশন জসপ্রিত বুমরাহ এবং উইকেটকিপার-ব্যাটার রিশভ পন্ত—সবাইকেই ডোপ টেস্টের নমুনা দিতে হবে। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন টপ-অর্ডার ব্যাটার শুভমান গিল, হার্ড-হিটার হার্দিক পান্ডিয়া, তিলক বর্মা, শ্রেয়াস আইয়ার, যশস্বী জসওয়াল, অর্শদীপ সিং এবং সাঞ্জু স্যামসন।
পুরুষদের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটের আইকনরাও বাদ পড়ছেন না এই প্রক্রিয়া থেকে। তালিকায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে শেফালি বর্মা, দীপ্তি শর্মা এবং রেণুকা সিং ঠাকুরের নাম। মূলত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ব্যস্ত সূচির মাঝে অ্যাথলেটদের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে কোনো নিষিদ্ধ ওষুধের প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালীন নমুনা সংগ্রহ
টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হোয়াইট বল’ (White-ball) ক্রিকেট সিরিজ চলাকালীনই এই নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ডোপ কন্ট্রোল অফিসারের (Dope Control Officer) নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল বিভিন্ন ম্যাচ ভেন্যুতে উপস্থিত হয়ে ক্রিকেটারদের ইউরিন বা মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (BCCI) আগেভাগেই সময়সূচি জানিয়ে দেবে এনএডিএ। মূলত ১৪ জন শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদদের ওপর এই কড়া নজরদারি চালানো হবে।
ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও এনএডিএ-র লক্ষ্য
আধুনিক ক্রীড়া বিশ্বে ‘পারফরম্যান্স এনহ্যান্সিং ড্রাগস’ বা নিষিদ্ধ শক্তিবর্ধক ওষুধের ব্যবহার রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ। এনএডিএ-র এই পদক্ষেপকে ভারতীয় ক্রিকেটের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিসিসিআই এবং এনএডিএ-র মধ্যকার সমন্বয় এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর। নিয়ম অনুযায়ী, আরটিপি তালিকায় থাকা অ্যাথলেটদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাদের অবস্থানের তথ্য বা ‘হোয়্যারঅ্যাবাউটস’ (Whereabouts) প্রদান করতে হয়, যাতে যেকোনো সময় আকস্মিক পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।
অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান সচেতনতা
এর আগে ২০১৯ সালে ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে চেতেশ্বর পূজারা, রবীন্দ্র জাদেজা এবং লোকেশ রাহুলের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সফল হয়নি বিভিন্ন টেকনিক্যাল ও ব্যক্তিগত কারণে। সেই সময় স্মৃতি মন্ধানা এবং দীপ্তি শর্মাকেও তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে ডোপিং বিরোধী আইন ও ক্রিকেটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার এনএডিএ এবং বিসিসিআই আরও অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ক্রিকেটকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে এই রুটিন চেক-আপ এখন বিশ্বজুড়েই বাধ্যতামূলক একটি প্রক্রিয়া।