জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলটি সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর (‘ডিসেবল’) করে দেওয়া হয়েছে। দেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতার প্রোফাইল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিন তাঁর ভক্ত ও সমর্থকদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি লাইভে এসে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রোফাইল বন্ধ হওয়ার নেপথ্যে তিনি ‘ভারতবিরোধী’ অবস্থান ও ‘কপিরাইট ক্লেইম’কে দায়ী করেছেন।
কেন অকার্যকর হলো প্রোফাইল? নেতার দাবি
ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত 'প্রোফাইল'টি বেশ কিছুদিন আগে 'ডিজেবল' করে দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে তিনি মনে করছেন।
নেতার দাবি অনুসারে, ভারতবিরোধী একাধিক শক্তিশালী ‘অবস্থান’ নেওয়ার কারণে পরবর্তী কিছু পোস্টের ওপর ‘কপিরাইট ক্লেইম’ বা স্বত্বাধিকারের অভিযোগ আনা হয়। তিনি মনে করেন, এই অভিযোগের মধ্য দিয়েই সুকৌশলে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত 'আইডি'টিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ‘টেক জায়ান্ট’ হিসেবে ফেসবুক বা মেটা প্ল্যাটফর্ম প্রায়শই নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে এমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ‘ডিজেবল’ বা অকার্যকর করার ঘটনা প্রায়শই বিতর্কের জন্ম দেয়।
যোগাযোগ রক্ষায় বিকল্প কৌশল ও বিশেষ আহ্বান
ব্যক্তিগত 'আইডি' অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ সচল রাখার জন্য হাসনাত আবদুল্লাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে তাঁর সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বার্তা কেবল ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকেই নিয়মিত প্রকাশিত হবে। ইতিপূর্বে এই পেজটি মূলত অ্যাডমিনরা পরিচালনা করলেও, এখন তিনি নিজেই ব্যক্তিগতভাবে পেজটি দেখভাল করবেন।
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ ‘আহ্বান’ জানিয়ে এই নেতা বলেন, তাঁর কথা ও সংবাদগুলো যেন কোনোভাবেই অনুসারীদের কাছে পৌঁছানো বন্ধ না হয়। এজন্য তিনি অনুসারীদের প্রতি অনুরোধ করেছেন— এই ‘ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ’টি যেন তাঁরা নিজ নিজ ‘প্রোফাইলে’ ও অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বেশি করে ‘শেয়ার’ করেন। এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর সঙ্গে বৃহত্তর জনগণের ‘নেটওয়ার্ক’ বা যোগাযোগ যেন অক্ষুণ্ণ থাকে।