প্রথম দিকে কম উপস্থিতি, পরে দীর্ঘ লাইন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে প্রথমদিকে শীতের কারণে অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রে আসতে পারেননি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। দুপুর ১টার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ মেহেদী হাসান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, 'শীতের কারণে সকাল সকাল আসতে পারিনি। ১টার পর এসেছি। তখন বড় লাইন ছিল। এটা আমার জীবনের প্রথম ভোট। লাইনে দাঁড়াতে একটু কষ্ট হলেও ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।'
সোহান আহমেদ নামে আরেকজন শিক্ষার্থী বন্ধুদের সঙ্গে ভোট দিতে এসে বলেন, 'আমরা বন্ধুরা সবাই একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছি। অনেকটা আনন্দে সময় কাটাচ্ছি জীবনের প্রথম ভোট দেবো'। আরেক শিক্ষার্থী ঝামেলা কম হলেও দেরিতে আসায় সিরিয়াল বেশি পাওয়ার কথা জানান।
নির্বাচনের পরিসংখ্যান ও প্রার্থীর তালিকা এই নির্বাচনে জকসু ও হল সংসদ মিলে মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ১৬ হাজার ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে একটি হল সংসদে ১২৪২ জন শিক্ষার্থী ভোট দেবেন। বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জকসু নির্বাচনে বিভিন্ন পদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন:
- মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র পদে চারজন।
- শিক্ষা ও গবেষণা পদে নয়জন।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে পাঁচজন।
- সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে দশজন (সর্বাধিক)।
ছাত্রী হলে ১৩টি পদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৩ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জকসু নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে রাত থেকেই গেটগুলোতে বিশেষ পাহারা বসানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা স্পেশাল কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারছেন।