মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস গ্রেপ্তার হওয়ার পর দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও জাতীয় জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও রাজধানী কারাকাসসহ অন্যান্য অঞ্চলের বহু নাগরিক ভয়ে নিজেদের বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
সামরিক আক্রমণের পর থমকে যাওয়া জনজীবন শনিবার (জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ) সকালে মার্কিন সামরিক অভিযানের শব্দে ঘুম ভাঙে কারাকাসবাসীর। বিস্ফোরণের শব্দ এবং আকাশে উড়োজাহাজের আনাগোনা নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ভয়ের জন্ম দেয়। এর জের ধরে রাস্তাঘাট এখনও শুনশান, বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ভেনেজুয়েলার মধ্য-পশ্চিম এলাকার এক বাসিন্দা ভিক্টোরিয়া জানান, পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক দিন তিনি বাড়ির বাইরে যাননি। অনেকে রাতে বাইরে বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোনও নিচ্ছেন না ছিনতাইয়ের ভয়ে।
নেতৃত্বের শূন্যতা ও খাদ্য মজুত প্রেসিডেন্ট মাদুরো গ্রেপ্তার হলেও তাঁর প্রশাসনের অনেক সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্র এখনও ক্ষমতায় রয়েছেন। এই মিত্রদের পক্ষ থেকে পাল্টা দমন-পীড়নের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। মাদুরোর গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত হওয়ার পরই কারাকাসজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করার হিড়িক পড়ে যায়। ৬৫ বছর বয়সী গ্রিসেল্ডা গুজমান একজন পেনশনভোগী, তিনি ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির আশঙ্কায় তাঁর স্বামীর সাথে মুদির দোকানের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সামগ্রী স্টক করেছেন।
রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি সামরিক অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরই ভেনেজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ভ্লাদিমির পাদরিনো লোপেজ ঘোষণা করেন, সামরিক নেতৃত্ব ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মাদুরোর পতনে অনেকেই উল্লাস প্রকাশ করেছেন, তবে স্থানীয় নাগরিকরা আশঙ্কা করছেন, দেশটির পরিস্থিতি এখনই স্বাভাবিক হচ্ছে না। স্পেনের মতো একাধিক আন্তর্জাতিক শক্তি এই সামরিক হস্তক্ষেপকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য 'অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত' বলে সতর্ক করেছে।
বিপর্যয়ের কারণ এক দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ। মাদুরোর গ্রেপ্তারের ফলে সৃষ্ট এই নতুন পরিস্থিতিতে দেশটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।