জকসু নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই নির্বাচনে 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান' (ছাত্রদল), 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' (ছাত্রশিবির), 'ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান' (ছাত্রশক্তি) ও 'ভাসানী ব্রিগেড' (বামপন্থি) প্যানেলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ হাজার ৬৪৫ জন শিক্ষার্থী এই নির্বাচনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দুই দশক পর প্রথমবারের মতো এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তা স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
ছাত্রশিবিরের ভিপি প্রার্থীর গুরুতর অভিযোগ
ছাত্রশিবির সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া এবং রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের শুরুতে পরিবেশ ভালো থাকলেও শিক্ষার্থীরা ভোটকেন্দ্রে আসতে শুরু করলে ছাত্রদল সমর্থকরা গেটের সামনে ভিড় করে। তারা ভোটকেন্দ্রে প্যানেল পরিচিতি বই আকারে ভোটারদের দিচ্ছে। রিয়াজুল ইসলামের অভিযোগ, তাদের প্রার্থীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল সমর্থকরা মারতে উদ্যত হয় এবং নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টোকেন ছিনতাই ও হেনস্তা করছে। তিনি দর্শন, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ প্রায় সব কেন্দ্রে একই ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার আশঙ্কা, ভোট গণনার সময়ও বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হতে পারে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানালে তারা বরাবরের মতোই অজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের সঙ্গে পক্ষপাতিত্বমূলক আলোচনারও অভিযোগ করেন তিনি।
ছাত্রদলের জিএস প্রার্থীর দ্বিচারিতার অভিযোগ
এদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান' প্যানেলের জিএস প্রার্থী এ কে এম রাকিব নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে 'দ্বিচারিতা'র অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন নম্বর দেখেই ভোট নেওয়া হচ্ছে এবং অন্য প্যানেলের টোকেন দেখলে দায়িত্বরতরা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। তার দাবি, যদি টোকেন ব্যবহারের সুযোগ দিতেই হয় তবে সবার জন্য তা উন্মুক্ত রাখতে হবে, নয়তো কারো জন্যই দেওয়া উচিত নয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ও প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের প্যানেলকে ব্যালট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান স্পষ্ট জানান, কেন্দ্র বা অন্য কোথাও ব্যালট নম্বর বা অন্য কিছু নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা দেননি।