দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য গাড়ি কেনায় ব্যয়ের সীমা বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ডলারের উচ্চমূল্য ও বিশ্ববাজারে অটোমোবাইল খাতের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অর্থ মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নতুন মূল্যসীমা ও পদমর্যাদা নতুন সংশোধিত সীমা অনুযায়ী, এখন থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার গাড়ি কেনা যাবে, যা আগে ছিল ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিবসহ সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য ১ কোটি টাকার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, আগে যা ছিল ৯৪ লাখ টাকা।
গ্রেড ও সিসি অনুযায়ী পরিবর্তন গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি (CC) বা ইঞ্জিনের ক্ষমতা অনুযায়ী গাড়ির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ২ হাজার ৭০০ সিসির জিপ বা এসইউভি (SUV) কেনায় এখন থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে। এছাড়া গ্রেড-৩ ও নিচের কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবহৃত গাড়ির ক্ষেত্রেও সিসি ভেদে দাম বাড়ানো হয়েছে। ১৬০০ সিসি পর্যন্ত কার বা জিপের জন্য সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসের দাম জনসেবা ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিশেষ যানবাহনের দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একটি চার চাকার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য এখন ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় করা যাবে। এছাড়া একটি এসি (AC) মাইক্রোবাসের জন্য ৫৯ লাখ এবং নন-এসি মাইক্রোবাসের জন্য ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাসের ক্ষেত্রে ৫২ আসনের বড় বাসের সীমা ৮২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ গাড়ির মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পরিবর্তনের ফলে আগের দামে মানসম্মত গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব আসার পর সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এই নতুন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।