সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট টাইটান্সকে ১৪ রানে পরাজিত করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এক হাইস্কোরিং থ্রিলারে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের ঝড়ো ব্যাটিং টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল চট্টগ্রামের ইনিংস। ওপেনার নাঈম শেখ (১৫ বলে ১৮) ও অ্যাডাম রসিংটন (৩৮ বলে ৪৯) ৩৫ রানের একটি মজবুত ভিত্তি গড়েন। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিন নম্বরে নামা মাহমুদুল হাসান জয়। মাত্র ২১ বলে ৪৪ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলে তিনি দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে দেন। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৬০ রান তোলে চট্টগ্রাম।
মিডল অর্ডারে হাসান নওয়াজ (২০ বলে ২৫) ও আসিফ আলী (৮ বলে ১৩) রানচাকা সচল রাখেন। শেষদিকে অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান মাত্র ১৩ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৮ রানের বিশাল পুঁজি জমা করে চট্টগ্রাম।
সিলেটের লড়াই এবং হার ১৯৯ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে সিলেট টাইটান্স। মাত্র ৪ রানের মধ্যেই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ফিরে যান। তাওফিক খান ও আফিফ হোসেন ধ্রুব কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। পাওয়ারপ্লে শেষে সিলেটের স্কোর দাঁড়ায় ৫০/৩।
আফিফ হোসেন একপ্রান্ত ধরে লড়াই চালিয়ে যান এবং ৩৩ বলে ৪৬ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন, যদিও ফিফটির আগে তাকে বিদায় নিতে হয়। মঈন আলী, আজমতউল্লাহ ওমরজাই বা ইথান ব্রুকস—কেউই বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। তবে শেষদিকে খালেদ আহমেদ ৯ বলে ২৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ম্যাচে দারুণ রোমাঞ্চ ফেরান এবং সমীকরণ কিছুটা নাগালের মধ্যে নামিয়ে আনেন। তবে শেষ ওভারে চট্টগ্রামের অভিজ্ঞ বোলাররা চাপ সামলে নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খালেদের স্ট্যাম্পিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ব্যাটিং দলের হাতে চলে আসে।
বোলারদের নৈপুণ্য শেষ পর্যন্ত ১৯.৪ ওভারে ১৮৪ রানে গুটিয়ে যায় সিলেট টাইটান্স। বল হাতে চট্টগ্রামের পক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান আমের জামাল, তিনি একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট পান। বাকি উইকেটগুলো ভাগ করে নেন আবু হায়দার রনি ও হাসান নওয়াজ। সহজ জয়ের পথে এগিয়েও শেষদিকে কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও, অভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপ ও ব্যাটিং গভীরতার কারণে শেষ হাসি চট্টগ্রাম রয়্যালসেরই।