দীর্ঘ দশ বছর ধরে গাছ থেকে পড়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে বিছানায় আবদ্ধ থাকা মণিরামপুরের মামুদকাটির আবুল কালাম (কালু) ভাইয়ের জীবনে নতুন আলোর সঞ্চার করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সম্রাট হোসেন। গত সোমবার রাতে তাঁকে কম্বল দিতে গিয়ে তাঁর জীবন সংগ্রামের কথা শুনে ইউএনও তাঁকে একটি হুইল চেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে আজ, বুধবার রাতেই কালু ভাইয়ের বাড়িতে হুইল চেয়ার নিয়ে হাজির হন মানবিক ইউএনও।
১০ বছরের কষ্টের জীবন, এবার স্বস্তি
মামুদকাটি এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম (কালু) এক দশক আগে গাছ থেকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর পাংশু জীবন শুরু হয়। গত ১০ বছর ধরে তিনি কার্যত বিছানাবন্দী জীবনযাপন করছেন। নিজের ইচ্ছেমতো সামান্য চলাচলের সুযোগও তাঁর ছিল না। জীবনধারণের এই চরম দুর্দশা স্থানীয়দের ব্যথিত করলেও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে তাঁর সমস্যার সমাধান হয়নি।
ইউএনও-র তাৎক্ষণিক মানবিক পদক্ষেপ
গত সোমবার রাতে ইউএনও সম্রাট হোসেন যখন শীতকালীন ‘রিলিফ প্রোগ্রাম’ (Relief Program)-এর অংশ হিসেবে তাঁর বাড়িতে কম্বল দিতে যান, তখন তিনি কালু ভাইয়ের দীর্ঘদিনের এই কষ্টের কথা শোনেন। কালু ভাইয়ের শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তাঁকে একটি হুইল চেয়ার দিয়ে তাঁর ‘মোবিলিটি’ (Mobility) বা চলাচলের সমস্যা দূর করার আশ্বাস দেন।
ইউএনও সম্রাট হোসেনের এই আশ্বাসটি কেবল মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তিনি তা বাস্তবায়িত করলেন। আজ রাতে ইউএনও নিজেই কালু ভাইয়ের বাড়িতে হুইল চেয়ারটি নিয়ে হাজির হন। হুইল চেয়ারটি দেখে আবুল কালাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
আংশিক মুক্তি, সর্বাত্মক প্রশংসা
নতুন এই হুইল চেয়ারের কারণে আবুল কালামের (কালু) দীর্ঘ দশ বছরের বিছানাবন্দী জীবনের কিছুটা হলেও ইতি ঘটল। এখন তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়াই ঘরের বাইরে যেতে এবং বাড়ির মধ্যে চলাচল করতে পারবেন। কালু ভাইয়ের চলার পথ কিছুটা হলেও মসৃণ হওয়ায় স্থানীয়রা ইউএনও সম্রাট হোসেনের এই মানবিক ‘অ্যাকশন’ (Action) এবং ‘ফাস্ট রেসপন্স’ (Fast Response) পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
ইউএনও সম্রাট হোসেন এই প্রসঙ্গে জানান, "সরকারি দায়িত্বের বাইরেও মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। কালু ভাইয়ের মতো মানুষদের জীবনে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারাও বড় প্রাপ্তি। এই হুইল চেয়ার তাঁর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সামান্য হলেও সাহায্য করবে বলে আমার বিশ্বাস।"