ঘুষের ১০ লাখ টাকাসহ আটকের প্রায় ১৮ দিন পর গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৪ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করা হয়, যা গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে জানাজানি হয়।
মামলার আসামি ও ধারা দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন সোহেল বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (গোপালগঞ্জ সদর) আমলি আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুদক মামলা নম্বর-১ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন— গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৩), শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০) এবং প্রাইভেটকার চালক মনির হোসেন বেপারী (৪০)। এই মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৬১, ১৬২ ও ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
১০ লাখ টাকা উদ্ধার ও প্রাথমিক আটক মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে গোপালগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইন্স মোড়ে নিয়মিত তল্লাশির সময় একটি প্রাইভেটকার থেকে মোট ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া টাকা দুটি ব্যাগে ছিল, যার মধ্যে একটি ব্যাগের খামের ওপর ‘সার্কেল’ লেখা ৭ লাখ টাকা এবং অন্যটিতে ‘জোন’ লেখা ৩ লাখ টাকা ছিল।
টাকা বহনকারী পিয়ন মোশারফ হোসেনের অসংলগ্ন কথায় সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে ও চালককে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, টাকাগুলো গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলামকে দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। এরপর পুলিশ সাজ্জাদুল ইসলামকেও সড়ক জোন অফিস থেকে আটক করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৮ ডিসেম্বর এই তিনজনকে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক বিভাগের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের টেন্ডার (Tender) অনুমোদনের জন্য এই ঘুষের টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক জোন ও সার্কেলের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা— অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাদেকুল ইসলাম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলামের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। টাকার খামের ওপর ‘জোন’ ও ‘সার্কেল’ লেখা থাকায় এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কেবল টাকা বহনকারী ছিলেন। একটি মহল এই ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলামকে ফাঁসিয়েছেন। কৌশলে ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা পার পেয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাদেকুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
দুদকের মামলায় গ্রেফতারের অনুমতির জন্য ৪ জানুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা হলে আদালত ওই তিনজনকে মামলায় গ্রেফতারের অনুমোদন দেন।