• জীবনযাপন
  • রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ? উপেক্ষা করবেন না, হতে পারে 'নক্টুরিয়া' রোগের ইঙ্গিত

রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ? উপেক্ষা করবেন না, হতে পারে 'নক্টুরিয়া' রোগের ইঙ্গিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, নক্টুরিয়া হতে পারে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, বয়সজনিত পরিবর্তন বা কোনো লুকিয়ে থাকা রোগের লক্ষণ। এই সমস্যাটি নিয়মিত হলে তা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ? উপেক্ষা করবেন না, হতে পারে 'নক্টুরিয়া' রোগের ইঙ্গিত

রাতে একবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙা স্বাভাবিক মনে হলেও, যদি এটি প্রায় প্রতি রাতেই ঘটে তবে তা শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় 'নক্টুরিয়া'। এটি শুধুমাত্র ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং শরীরের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা কিছু গুরুতর সমস্যারও আভাস দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন অভ্যাস, বয়সজনিত পরিবর্তন কিংবা রোগের লক্ষণ হিসেবে নক্টুরিয়া দেখা যেতে পারে। তাই নিয়মিত এমন সমস্যা হলে এর সম্ভাব্য কারণগুলো জানা এবং সতর্ক হওয়া জরুরি।

নক্টুরিয়া বা রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সম্ভাব্য কারণসমূহ

রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ অনুভব করার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এগুলি সাধারণত দৈনন্দিন অভ্যাস বা শরীরের কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যার সাথে সম্পর্কিত। প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত পানীয় গ্রহণ ঘুমাতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত পরিমাণে পানি, চা, কফি বা অ্যালকোহল পান করলে রাতে মূত্রাশয়ে চাপ বাড়ে। বিশেষ করে চা, কফি এবং অ্যালকোহল হলো ডাইউরেটিক পানীয়, যা প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

বয়সজনিত পরিবর্তন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূত্রাশয়ের প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে আসে। পাশাপাশি, হরমোনের পরিবর্তনের কারণে রাতে শরীর কম পরিমাণে পানি ধরে রাখতে পারে। এর ফলে অল্প প্রস্রাবের চাপেও ঘুম ভেঙে যায়। বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যাটি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

ডায়াবেটিস ও মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI) রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা যদি বেশি থাকে, তবে শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে, ফলে বেশি প্রস্রাব তৈরি হয়। এছাড়া, মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI), মূত্রাশয়ের প্রদাহ বা পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেলেও ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ তৈরি হতে পারে।

পা ফোলা বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা দিনের বেলায় যদি পায়ে অতিরিক্ত তরল জমা হয় (যা 'ইডিমা' নামে পরিচিত), তবে রাতে শোয়ার সময় সেই তরল রক্তে ফিরে আসে। তখন কিডনি সেই অতিরিক্ত তরলকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। এ কারণে রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয়। এটি অনেক সময় হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে।

ঘুমের ব্যাধি বা স্লিপ অ্যাপনিয়া ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হলে, যা স্লিপ অ্যাপনিয়া নামে পরিচিত, শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এটি কিডনির স্বাভাবিক কাজের ধরনকে বদলে দিতে পারে এবং রাতে বেশি প্রস্রাব হতে পারে।

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা শরীরের ফোলা কমানোর জন্য ব্যবহৃত কিছু ওষুধ (যা 'ডায়ুরেটিক' নামে পরিচিত) প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়াতে পারে। এই ধরনের ওষুধ সন্ধ্যার পর সেবন করলে রাতের সমস্যাটি আরও বাড়তে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন নক্টুরিয়া সব সময় গুরুতর না হলেও কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি:

  • যদি প্রতি রাতে একবারের বেশি প্রস্রাবের জন্য উঠতে হয়।
  • যদি প্রস্রাবের সঙ্গে জ্বালা, ব্যথা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা চরম ক্লান্তি থাকে।
  • যদি ঘুমের অভাবের কারণে দিনের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম ব্যাহত হয়।

সমস্যা কমাতে করণীয়

  • সন্ধ্যার পর থেকে পানি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম পান করুন।
  • ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে বাথরুম ব্যবহার করুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।

যদি সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো কারণ খুঁজে ব্যবস্থা নিলে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Tags: health lifestyle diabetes urination nocturia sleep apnea kidney problem