বনদস্যু মাসুম ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার গ্রেপ্তারের পর বনদস্যু মাসুমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। এই অভিযানে ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, আট রাউন্ড তাজা গুলি, চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা, একটি স্টিল পাইপ এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, জিম্মি হওয়া পর্যটকদের ৫টি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।
পর্যটক অপহরণ ও উদ্ধার অভিযান কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটে ভ্রমণের সময় মাসুম বাহিনীর সদস্যরা দুই পর্যটকসহ রিসোর্ট মালিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড তাৎক্ষণিক যৌথ অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি এবং ফিন্যান্সিয়াল ট্রেসিং (Financial Tracing) প্রযুক্তির সাহায্যে টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানের পর অপহৃত জিম্মিদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
আগের অভিযানে আটক আট ডাকাত অপহৃতদের উদ্ধারের ওই অভিযানে ডাকাত দলের আটজন সক্রিয় সদস্যকে সুন্দরবন, দাকোপ ও খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছিল। আটককৃতরা হলো— কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), মো. ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) ও মোছা মৃধা (৫৫)।
সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদার কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু বিরোধী অভিযানে মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধারসহ ৫২ জন জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করা হয়। আছাবুর, হান্নান, আনারুল, মঞ্জু ও রাঙ্গা বাহিনীর মতো কুখ্যাত বনদস্যু বাহিনীগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বর্তমানে সক্রিয় থাকা করিম শরিফ, জাহাঙ্গীর ও দয়াল বাহিনীর সদস্যদের দমনে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত ও জব্দকৃত আলামতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখবে।