মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা ও মামলা
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
জানাজা ও নেতাদের বক্তব্য
বৃহস্পতিবার বাদ জোহর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুছাব্বিরের কফিন নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, এসএম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলীসহ অন্য নেতা-কর্মীরা জানাজায় অংশ নেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, অনতিবিলম্বে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান, অন্যথায় সরকারের আন্তরিকতায় ঘাটতি রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার যে লড়াই চলছে, কোনো হত্যাকাণ্ডই সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
'সাহসী সৈনিক' মুছাব্বির
স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু মুছাব্বিরকে একজন 'দেশপ্রেমিক সাহসী সৈনিক' হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মুছাব্বিরকে অনেকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একবার তাকে গুমও করা হয়েছিল। তিনি এই হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক অভিযোগ করেন, একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার জন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে। মুছাব্বিরকে নির্বাচন বানচালকারীদের চক্রান্তের অংশ হিসেবে হত্যা করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা। তিনি সকলকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনও দ্রুত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, অন্যথায় তারা নিজেরাই হত্যাকারীদের খুঁজে বের করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।