**** কলস প্রতীকের ঐতিহাসিক তাৎপর্য****
যশোরের মণিরামপুর-৫ সংসদীয় আসনে 'কলস' প্রতীক যেন এক 'সোনার হরিণ' (Elusive Prize)। এই প্রতীকটির একটি ঐতিহাসিক সৌভাগ্য রয়েছে। বিগত স্বৈরাচার আমলে মণিরামপুরের সব থেকে হেভিওয়েট নেতা এবং বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতানকে পরাজিত করে স্বপন ভট্টাচার্য কলস প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে ২০২৬ সালের নির্বাচনেও বিএনপি জোটের প্রার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় জনগণ।
মনোনয়ন জটিলতা: ত্যাগী নেতার 'অমূল্যায়ন'
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি জোটের মনোনয়ন নিয়ে মণিরামপুর-৫ আসনে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে:
প্রাথমিক মনোনয়ন: বিএনপি জোট প্রথমে উপজেলা বিএনপি সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেনকে মনোনয়ন দিলেও, পরবর্তী সময়ে জোটের প্রার্থী হিসেবে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত মুফতি ওয়াক্কাস সাহেবের পুত্র রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।
স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা: মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে উপজেলা বিএনপি সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (Independent Candidate) হয়ে কলস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং জোর গণসংযোগ করে চলেছেন।
লড়াইয়ের ভিত্তি: তিনি নিজের মেধা, শ্রম এবং দীর্ঘদিন রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন ও বিজয়ী হওয়ার জন্য সকলের নিকট দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন।
নেতাকর্মীদের ক্ষোভ: ত্যাগের মূল্যায়ন হয়নি
দলীয় কোন্দল এবং হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
দুঃখজনক পরিস্থিতি: বিগত ১৭ বছর দল যখন ক্ষমতার বাইরে ছিল, তখন জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার ত্যাগী এই নেতাকে শেষ বয়সে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা 'দুঃখজনক' বলে মনে করছেন দলের একাধিক সিনিয়র ও যুব, ছাত্র নেতা।
মূল্যায়নের দাবি: তৃণমূলের অনেক নেতা ও সাধারণ ভোটারদেরও ক্ষোভ, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক জীবনে দলের জন্য ছুটে চলা মানুষটাকে এবার দলীয় মনোনয়ন দিয়ে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত একটি সংগঠন গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তারা মনে করেন, শহীদ ইকবাল হোসেনের ত্যাগের মূল্যায়ন হয়নি।
রাজনৈতিক সমীকরণ: কলস প্রতীকের পুনরাবৃত্তি
অতীতে কলস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়ের ইতিহাস থাকায়, মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসের জোট মনোনয়নের বিপরীতে শহীদ ইকবালের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়াইতে নামা এই আসনটিতে Political Drama-কে বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও নেতা-কর্মীদের আবেগ ও সমর্থনের কারণে শহীদ ইকবাল এই আসনে একটি Tough Competition সৃষ্টি করতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।