চট্টগ্রামে হঠাৎ করেই রান্নার গ্যাস (এলপিজি) উধাও হয়ে গেছে, যা নগরবাসীর জীবনে তীব্র দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। নগরের বহু বাসাবাড়িতে চুলা নিভে গেছে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ— সিলিন্ডার গ্যাস এখন যেন 'সোনার হরিণ', খুঁজলেও মিলছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।
কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফা অভিযোগ উঠেছে যে, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্যাস মজুত রাখছেন এবং অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া, কর্ণফুলি, পতেঙ্গা, বায়েজিদসহ যেসব এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ নেই, সেসব এলাকার মানুষ পুরোপুরি এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। শীতের সময়ে গ্যাসের চাহিদা বাড়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
বাজারের চিত্র ও দামের অস্থিরতা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করলেও, বাজারে এখন তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দামে হাঁকা হচ্ছে। অর্থাৎ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনের ধর্মঘট ও সরকারি পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেয়। তাদের অভিযোগ, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মূল্য নির্ধারণ করায় বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবেশকরা লোকসানে পড়ছেন। এর মধ্যে, অন্তর্বর্তী সরকার এলপি গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে এবং স্থানীয় উৎপাদনে ভ্যাট ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাকলিয়া এলাকার এক গৃহিণী জানিয়েছেন, তিন দিন ধরে তার বাসায় রান্না হয়নি। অন্যদিকে, হোটেল মালিকরা বলছেন, দাম না বাড়ালে তাদের ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। ভোক্তাদের বড় একটি অংশ মনে করছে, মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা যোগসাজশে এই সংকট তৈরি করছেন।