• জাতীয়
  • পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোট স্থগিতের খবর ‘গুজব’, বিভ্রান্তি এড়াতে নির্বাচন কমিশনের জরুরি স্পষ্টীকরণ

পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোট স্থগিতের খবর ‘গুজব’, বিভ্রান্তি এড়াতে নির্বাচন কমিশনের জরুরি স্পষ্টীকরণ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোট স্থগিতের খবর ‘গুজব’, বিভ্রান্তি এড়াতে নির্বাচন কমিশনের জরুরি স্পষ্টীকরণ

আদালতের আদেশে কেবল নির্বাচনী কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, ভোট বাতিলের খবরকে ভিত্তিহীন বলছে ইসি; বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রত্যাহারের আহ্বান

পাবনা-১ এবং পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংবাদটি সম্পূর্ণ সঠিক নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (EC)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি ‘প্রেস নোটে’ এই বিভ্রান্তি নিরসন করা হয়। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচন বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং এ সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আইনি জটিলতা ও প্রকৃত সত্য

শুক্রবার সকালে কয়েকটি গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদের বরাত দিয়ে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের খবর প্রকাশিত হলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে ইসি জানায়, ‘নির্বাচন স্থগিত’ এবং ‘নির্বাচনী কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা’—এই দুইয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, "নির্বাচন স্থগিত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের (Appellate Division) পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শুধু এ দুটি আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম (Electoral Activities) আপাতত স্থগিত থাকবে।" অর্থাৎ, এটি একটি সাময়িক আইনি প্রক্রিয়া, যা আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল।

সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আইনি লড়াই

ঘটনার মূলে রয়েছে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিরোধ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে একটি গেজেট (Gazette) প্রকাশ করে। সেই সীমানা অনুযায়ী, সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা নিয়ে পাবনা-১ এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন পুনর্গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে সীমানা নিয়ে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে গত ২৪ ডিসেম্বর ইসি একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি দেয়, যেখানে আগের সীমানা পুনর্বহাল করা হয়েছিল। তবে এক প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৫ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ওই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির ওপর ‘স্টে অর্ডার’ (Stay Order) বা স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে বর্তমানে ওই দুটি আসনে ইসির নতুন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ নেই, যতক্ষণ না আপিল বিভাগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।

গণমাধ্যমের প্রতি ইসির আহ্বান

নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যারা এরই মধ্যে ‘ভোট স্থগিত’ হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে, তাদের সেই প্রতিবেদনগুলো দ্রুত প্রত্যাহার বা সংশোধন করা উচিত। ভুল তথ্যের কারণে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগের সৃষ্টি হতে পারে, যা নির্বাচনী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

উল্লেখ্য, পাবনার এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সীমানা নির্ধারণ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগে থেকেই ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনার পর নির্বাচন কমিশন এই আসনগুলোতে ভোটগ্রহণের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Tags: bangladesh election election commission appellate division pabna election vote update stay order boundary dispute ec news pabna 1 pabna 2