বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) চলতি আসরে হারের বৃত্ত থেকে কোনোভাবেই বের হতে পারছে না নোয়াখালী এক্সপ্রেস। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর স্মরণীয় হ্যাটট্রিকে (Hat-trick) নির্ধারিত ২০ ওভার পার করার আগেই অলআউট হয়েছে তারা। ১ বল বাকি থাকতে মাত্র ১৪৮ রানেই থামে নোয়াখালীর ইনিংস।
সিলেটে মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিক তাণ্ডব
ইনিংসের শেষ ওভারে যখন নোয়াখালী লড়াকু পুঁজির সন্ধানে ছিল, তখনই বল হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। প্রথম দুই ওভারে কোনো উইকেটের দেখা না পেলেও ২০তম ওভারের প্রথম তিন বলে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জহির খান ও বিলাল সামিকে সাজঘরে ফিরিয়ে চলতি বিপিএলের অন্যতম নাটকীয় হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করেন এই তরুণ পেসার। তার এই গতি ও নিখুঁত ডেলিভারির (Delivery) সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে নোয়াখালীর টেল-এন্ডাররা।
ভালো সূচনার পর পথ হারাল নোয়াখালী
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের শুরুটা ছিল মারকুটে। উদ্বোধনী জুটিতে শাহাদত হোসেন দিপু ও সৌম্য সরকার মাত্র ২ ওভারেই ২৫ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন। তবে তৃতীয় ওভারের শুরুতেই দিপুকে (৮ বলে ১৪ রান) বোল্ড করে প্রথম আঘাত হানেন 'কাটার মাস্টার' মোস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয় উইকেটে হাবিবুর রহমান সোহানকে নিয়ে ৪৩ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সৌম্য। সোহান ১৬ বলে ৩০ রানের ক্যামিও খেলে বিদায় নিলে রানের গতি কিছুটা থিতু হয়।
মধ্যভাগে খুশদিলের হানা ও ফিজের শিকার
ইনিংসের ১১তম ওভারে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন পাকিস্তানি স্পিনার খুশদিল শাহ। ওভারের প্রথম দুই বলে থিতু হওয়া সৌম্য সরকার (২৭ বলে ৩১) এবং অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবীকে ফিরিয়ে নোয়াখালীকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি। এক প্রান্ত আগলে রেখে জাকের আলী অনিক লড়াই করার চেষ্টা করলেও তার ৩৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংসটি ছিল টি-টোয়েন্টি সুলভ নয়। ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাকের। পরের বলেই মেহেদী হাসান রানাকে বোল্ড করে নোয়াখালীর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ফিজ।
বোলিং ইউনিটের দাপট ও লক্ষ্যমাত্রা
রংপুর রাইডার্সের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী; উভয়েই শিকার করেন ৩টি করে উইকেট। এছাড়া খুশদিল শাহ ২টি এবং নাহিদ রানা ও মুকিম সুফিয়ান ১টি করে উইকেট নিয়ে নোয়াখালীকে দেড়শর নিচেই আটকে রাখতে সক্ষম হন।
টানা ৬ ম্যাচ হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য ১৪৯ রানের লক্ষ্য রক্ষা করাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সিলেটের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রংপুরের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে এই পুঁজি কতটা নিরাপদ হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।