বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে (U.S. State Department) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন তিনি। শপথ নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, পূর্ব পরিচিত কর্মস্থল বাংলাদেশে পুনরায় ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং উচ্ছ্বসিত।
অভিজ্ঞ কূটনীতিকের ঢাকা প্রত্যাবর্তন
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের 'সিনিয়র ফরেন সার্ভিস' (Senior Foreign Service)-এর একজন ঝানু কর্মকর্তা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান রয়েছে। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে ‘পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর’ (Political and Economic Counselor) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “যে দেশটির সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত।”
ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ক্রিস্টেনসেনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছে। দূতাবাস উল্লেখ করেছে, অভিজ্ঞ এই কূটনীতিকের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মনোনীত রাষ্ট্রদূত হিসেবে ক্রিস্টেনসেনের ওপর ওয়াশিংটনের বিশেষ ভরসা রয়েছে। শপথ গ্রহণ শেষে তিনি তার কাজের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, “ঢাকার দূতাবাসে আমেরিকান এবং স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি দক্ষ দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে আমি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চাই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভিশন (Vision) এগিয়ে নেওয়া এবং আমেরিকার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক (Geopolitical) স্বার্থ রক্ষা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক (Trade Relations) সম্প্রসারণে ক্রিস্টেনসেনের নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কবে নাগাদ ঢাকায় আসছেন?
কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী ১২ জানুয়ারি (সোমবার) ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পা রাখবেন। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখতে কাজ শুরু করবেন। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এর আগে পিটার হাস ১৭তম মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পিটার হাসের বিদায়ের পর বেশ কিছুদিন শূন্য থাকার পর অবশেষে পূর্ণকালীন রাষ্ট্রদূত পেতে যাচ্ছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
ক্রিস্টেনসেনের আগমনে দুই দেশের মধ্যকার ‘ডিপ্লোম্যাটিক এঙ্গেজমেন্ট’ (Diplomatic Engagement) নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে এখন সবার নজর থাকবে ক্রিস্টেনসেনের ওপর।