• আন্তর্জাতিক
  • মাচাদোর নোবেল ট্রাম্পের হাতে? ‘অসম্ভব’ জানিয়ে কড়া বার্তা নোবেল কমিটির

মাচাদোর নোবেল ট্রাম্পের হাতে? ‘অসম্ভব’ জানিয়ে কড়া বার্তা নোবেল কমিটির

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মাচাদোর নোবেল ট্রাম্পের হাতে? ‘অসম্ভব’ জানিয়ে কড়া বার্তা নোবেল কমিটির

ভেনেজুয়েলার নেত্রীর নজিরবিহীন প্রস্তাব ও ট্রাম্পের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়; সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো, শান্তি পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো তার অর্জিত সম্মাননা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে এই প্রস্তাবের বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যা চাইলেই কাউকে দিয়ে দেওয়া যায়।

নোবেল কমিটির অনড় অবস্থান ও প্রটোকল

মাচাদোর এই বিস্ময়কর ঘোষণার পরপরই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছে নোবেল কমিটি। সেখানে বলা হয়েছে, "নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) কোনোভাবেই প্রত্যাহার, ভাগাভাগি কিংবা অন্য কারোর কাছে হস্তান্তর করার সুযোগ নেই। একবার এই পুরস্কারের নাম ঘোষণা হয়ে গেলে সেই সিদ্ধান্ত চিরস্থায়ী এবং অপরিবর্তনীয়।" মূলত আন্তর্জাতিক মর্যাদার এই শীর্ষ পদকটির গরিমা ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই কঠোর বার্তা দিয়েছে কমিটি। তাদের মতে, এটি কোনো ট্রফি নয় যা হাতবদল করা যায়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট কাজের স্বীকৃতি।

ট্রাম্প-মাচাদো বৈঠক ও আগামীর সমীকরণ

এদিকে, এই বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন মারিয়া করিনা মাচাদো। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাচাদো তাকে অভিনন্দন জানাতে এবং এই বিশেষ প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ট্রাম্পের মতে, মাচাদোর এই পদক্ষেপ তার নেতৃত্বের প্রতি এক বড় সম্মান। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব মূলত একটি প্রতীকী অঙ্গভঙ্গি, যার মাধ্যমে মাচাদো বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে চেয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক এক জটিল মোড় নিয়েছে। ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মাদক-সন্ত্রাস ও অন্যান্য অভিযোগে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। এরপর দেশটির বিশাল তেল মজুদ (Oil Reserves) এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান দুই দেশের উত্তেজনাকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে। মাদুরোর পতনের পর মাচাদো নিজে ক্ষমতা গ্রহণ না করে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দায়িত্ব দিয়েছেন, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্রাম্পের ‘শান্তি দূত’ ইমেজ ও আত্মবিশ্বাস

ডনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরেই নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের একজন যোগ্য দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম আট মাসেই তিনি আটটি বড় যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, "যে যুদ্ধগুলো অন্য কেউ থামানোর কথা ভাবতেও পারত না, সেগুলো আমি থামিয়েছি। বন্ধ হওয়া প্রতিটি যুদ্ধের জন্যই একজনের নোবেল পাওয়া উচিত।" মাচাদোর এই প্রস্তাবকে তিনি নিজের ‘গ্লোবাল ডিপ্লোমেসি’ (Global Diplomacy) বা বিশ্ব কূটনীতির এক বিশাল স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়ার ঢেউ

মাচাদোর এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকে একে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখলেও নোবেল কমিটির নিয়মমাফিক অস্বীকৃতি বিষয়টিকে আইনি ও নৈতিক বেড়াজালে আটকে দিয়েছে। ট্রাম্প ও মাচাদোর আসন্ন বৈঠক থেকে নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক (Geopolitical) সমীকরণ বেরিয়ে আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়। তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা এবং নোবেল কমিটির কঠোর প্রটোকল শেষ পর্যন্ত এক বড় সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।

Tags: donald trump geopolitics venezuela politics global diplomacy oil reserves nobel prize maria machado peace prize international protocol nobel committee