• দেশজুড়ে
  • দোলনা ভেবে খেলতে গিয়ে মরণফাঁস! ভোলার লালমোহনে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক প্রয়াণ

দোলনা ভেবে খেলতে গিয়ে মরণফাঁস! ভোলার লালমোহনে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক প্রয়াণ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
দোলনা ভেবে খেলতে গিয়ে মরণফাঁস! ভোলার লালমোহনে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক প্রয়াণ

বাজারের পাশেই ঝুলন্ত দড়ি নিয়ে খেলতে গিয়ে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা; একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার ও এলাকায় গভীর শোক।

একটি সুন্দর সকাল মুহূর্তেই রূপ নিল এক বিভীষিকায়। ভোলার লালমোহনে দোলনা ভেবে গাছের সাথে ঝুলন্ত দড়ি নিয়ে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত গলায় ফাঁস লেগে মো. তামিম (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনতা বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। শিশু তামিম স্থানীয় একটি Primary School-এর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

খেলার ছলে অকাল মৃত্যু: যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

নিহত তামিম ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালামবুল্যাহ গ্রামের বালু শ্রমিক মো. রফিকের একমাত্র ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে তার দাদা মো. শফিক মাঝির সাথে ধান ভাঙানোর উদ্দেশ্যে জনতা বাজারে আসে তামিম। দাদা যখন ধান ভাঙানোর কলঘরে (Rice Mill) কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখন তামিম বাজারের পাশেই অবস্থিত পূর্ব চতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খেলতে চলে যায়।

স্কুলের পেছনে একটি সুপারি গাছ ও রেইন্ট্রি গাছের সাথে একটি দড়ি ঝুলতে দেখে শিশুসুলভ চপলতায় সেটিকে দোলনা মনে করে খেলতে শুরু করে তামিম। খেলার একপর্যায়ে দড়িটি তার গলায় পেঁচিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে গলায় ফাঁস লেগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

উদ্ধার ও পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ

দীর্ঘক্ষণ নাতনিকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন দাদা শফিক মাঝি। একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের পেছনে ঝুলন্ত অবস্থায় তামিমকে দেখতে পায়। খবর পেয়ে মঙ্গলসিকদার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এরশাদ উকিল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনাটি শুনে লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ এবং লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম ঘটনাস্থল (Crime Scene) পরিদর্শন করেন। ইনচার্জ এরশাদ উকিল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা। খেলাচ্ছলে অসতর্কতাবশত গলায় ফাঁস লেগেছে বলে মনে হচ্ছে। শিশুটির শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।”

পরিবারে শোকের মাতম ও জনপদে নীরবতা

তামিমের বাবা রফিক জীবিকার তাগিদে বর্তমানে নোয়াখালীতে বালু শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। এদিকে আদরের নাতনিকে চোখের আড়াল হতে না হতেই এমন করুণ মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন দাদা শফিক মাঝি।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে জনতা বাজার ও কালামবুল্যাহ গ্রাম এলাকায় এক স্তব্ধতা নেমে এসেছে। খেলার মাঠে শিশুদের নিরাপত্তা এবং অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া এমন দুর্ঘটনা রোধে অভিভাবকদের সচেতনতা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা। দ্বিতীয় শ্রেণির এক মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছে না তার সহপাঠী ও শিক্ষকরাও।

Tags: police investigation bhola news child death tragic accident accidental death lalmohan update primary student safety awareness